তারেকের সঙ্গে বৈঠক করায় ফখরুলকে জিজ্ঞাসা করা উচিত: খালিদ

ব্রিটেনে বসবাসরত পলাতক আসামি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার বাজেট বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
 
তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের লন্ডনে বৈঠকের সমালোচনা করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে শুধু বৈঠকই করেননি, ভুরিভোজও করেছেন। ওখানে বসে কি ষড়যন্ত্র করছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে। একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় আইনের ব্যত্যয় ঘটে কি না? সেটা খতিয়ে দেখে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন, সেদিকে মনোযোগী না হয়ে বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধন্না দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে।
 
এসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে, ইসলামের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি। খালিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আল্লাহর নাম নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু। তার হাত ধরেই বিশ্ব ইসলামী সংস্থা ওআইসির সদস্য পদ লাভ করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর পরই এদেশে মদ-জুয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
 
তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারও ইসলাম ধর্মের প্রচারে সচেষ্ট। এদেশে একটা সময় মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার আবার তা চালু করেছে। আওয়ামী লীগ সব সময় কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাসের বিপক্ষে।
 
আওয়ামী লীগই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেছে, আলেম-ওলামাদের দীর্ঘদিনের দাবি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। ঈদে মিলাদুন্নবী, শবে-কদর, শবে-বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ইসলাম প্রচারে তাবলীগ জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করেছে আওয়ামী লীগ। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রচলিত সনদের সমমানের মর্যাদাও দিয়েছে বর্তমান সরকার। ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রীসভার সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। দ্বিতীয় পদ্মাসেতুতে উত্তরবঙ্গকে সংযুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যৎ উন্নয়নে উত্তরবঙ্গকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে প্রজন্ম রক্ষার অভিযান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
ইত্তেফাক/সেতু