পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দ্বীপ, যেখানে সবাই একই বংশধরের

'কুক আইল্যান্ডস' প্রশান্ত মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য একটি দ্বীপপুঞ্জ। তার একটি অংশ পামারস্টোন আইল্যান্ড। এটিকে পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দ্বীপ হিসেবে অভিহিত করা হয়। 
 
বৃটিশ অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন জেমস কুক ১৭৭৪ সালের ১৬ জুন আবিষ্কার করেছিলেন এই দ্বীপ।ইতিহাস অনুযায়ী এই দ্বীপে কোন মানুষ না থাকায় তিনি নোঙর ফেলেননি। কিন্তু দ্বীপের নামকরণ করেন তার এক সহকর্মী হেনরি টেম্পলের নামে। 
 
পরে ১৮৮৩ সালে এই দ্বীপে পা রাখেন কাঠের এক কারিগর। তার নাম উইলিয়াম মার্সস্টারস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'বিবিসি'র প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃটিশ এক ব্যবসায়ী জন ব্যান্ডার উইলিয়ামকে এই দ্বীপের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখেন। 
 
উইলিয়াম মার্সস্টারস তার দুই শ্যালিকা ও স্ত্রীকে নিয়ে এই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। আর জন ব্যান্ডারের জাহাজ প্রতি ৬ মাস অন্তর এসে দ্বীপ থেকে নারকেল নিয়ে যেত। কিন্তু মালিকের মৃত্যুর পর ব্রিটেনের রাণী ভিক্টোরিয়ার নির্দেশে মার্সস্টারসের হাতে দ্বীপের মালিকানা তুলে দেওয়া হয়। 
 
দ্বীপে একসময় উইলিয়াম তার দুই শ্যালিকাকেও বিয়ে করেন। কিন্তু ১৮৯৯ সালে তিন স্ত্রী ও ২৩ জন সন্তান সন্ততিকে রেখে মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে তিন স্ত্রীকে দ্বীপটি সমান তিন ভাগে ভাগ করে দিয়ে যান।
 
২০১৩ সালের রেকর্ড অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭০ জনের মত জনসংখ্যা পামারস্টোন আইল্যান্ডে। আর তারা প্রত্যেকেই উইলিয়ামের বংশধর। তবে অনেকে জীবন ধারণের জন্য দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।
 
নিউজিল্যান্ডস বা অস্ট্রেলিয়া মেইনল্যান্ড থেকে এই পামারস্টোন আইল্যান্ড যাওয়ার একমাত্র উপায় জলপথ। 
 
ইত্তেফাক/এসআর/নূহু