ভুয়া সংবাদ দেশের প্রধান শত্রু : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভুয়া সংবাদ দেশের প্রধান শত্রু। তিনি এজন্য প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এবং এনবিসিকে দায়ী করেন। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দুটি সংবাদ মাধ্যমের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেছেন, উত্তর কোরিয়া আর পরমাণু ইস্যুতে হুমকি নয়। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর বিপজ্জনক কিংবা সমস্যা নয়। গতকাল বুধবার এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এদিকে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার যৌথ ঘোষণার সমালোচনা করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। খবর ফক্স নিউজ, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের
 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল টুইটার বার্তায় বলেন, বিশেষ করে এনবিসি এবং সিএনএনের ভুয়া সংবাদ দেখতে খুবই মজার। তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে করার চুক্তিকে গুরুত্বহীন করতে যুদ্ধে নেমে পড়েছে। অথচ ৫০০ দিন আগেও তারা এরকম চুক্তি করার জন্য কাকুতি-মিনতি করেছে। মনে হয়েছিল যুদ্ধ লেগে গিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আমাদের দেশের প্রধান শত্রু  ভুয়া সংবাদ। কারণ এর মাধ্যমে মানুষকে সহজেই বোকা বানানো যায়। এর আগে আরেক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি যেদিন দায়িত্ব নিয়েছিলাম সেদিনের পর এখন মানুষ অনেক নিরাপদবোধ করছে। উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে এখন আর পরমাণু হুমকি আসবে না। তিনি বলেন, কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক খুবই সুন্দর হয়েছে এবং আমার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য উত্তর কোরিয়ার অনেক ভাল কিছু করার আছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা না খেলে আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করছি। আমরা বিশ্বাসের সঙ্গে সমঝোতা করছি। উভয় দেশেরই বিশ্বাস আছে।
 
ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা
 
বিরোধী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাননি। গোয়েন্দা সংক্রান্ত সিনেট সিলেক্ট কমিটির সদস্য মার্ক ওয়ার্নার বলেন, কিম জং উন যা চেয়েছেন তার সবকিছুই পেয়েছেন। তিনি সেগুলো নিয়ে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেছেন। কিন্তু এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্র পায়নি। সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য বব মেন্দেনদেজ বলেন, একটা সেলফির বিনিময়ে আমরা উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের চাপ এবং নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিচ্ছি। তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যেই উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রক্তপাতহীন সমঝোতায় পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করা হয়নি।
 
মিশ্র প্রতিক্রিয়া রিপাবলিকানে
 
সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান এবং রিপাবলিকান নেতা বব ক্রোকার বলেন, কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে তা বোঝা খুবই কঠিন। তবে তিনি ট্রাম্প ও কিমের বৈঠককে স্বাগত জানান। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান বলেন, সমঝোতা এগিয়ে চলছে। তবে একটা কাজ হয়েছে, তাহলো উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা একটা নিষ্ঠুর প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছি। তিনি বলেন, তখনই উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে যখন দেশটি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল ট্রাম্প ও কিমের বৈঠককে প্রথম বড় ধরনের পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধের ঘোষণা হাস্যকর। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনা মোতায়েন করা মার্কিন করদাতাদের জন্য বোঝা নয়।