আজ ২৯ রমজান। আজ সওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা সিয়াম পালনের সূচনা করবে চাঁদ দেখে এবং সিয়াম পালনের ইতি টানবে চাঁদ দেখে। মাস ২৯ দিনেও হয় আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি ২৯ দিনে চাঁদ না দেখা যায় তাহলে ৩০ পূরণ করবে।
চাঁদ দেখা ছওয়াবের কাজ এবং আল্লাহর নবীর নির্দেশ। কিন্তু আমাদের দেশের অতি উত্সাহী কিছু ব্যক্তি আছেন যারা মক্কার চাঁদ দেখার খবরে সিয়াম পালনে রত হয় এবং মক্কা মুকাররমার ঈদের দিনে তারা ঈদ পালনে ব্রতী হয়। তাদের মক্কা শরীফের চাঁদ দেখার সঙ্গে নিজেদের ভৌগোলিক সীমায় চাঁদের অস্তিত্বের কোনো খোঁজ-খবর না থাকলেও সেটা গুরুত্ব দিতে চায় না।
আসলে মুসলিম উম্মার ঐক্যের চেতনায় তারা ফাটল ধরাতে চায়, এটা কোনো অবস্থাতেই শরিয়ত সম্মত নয়। তাদের কাছে প্রশ্ন: মক্কা মুকাররমার চাঁদ দেখার খবরে সিয়াম পালন করলে সে সিয়াম কি শরিয়ত সম্মত হবে? পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানে চাঁদ দেখা গেছে এই মর্মে ঘোষণা দিয়ে সংহতি নামে পূর্ব পাকিস্তানে ঈদ পালনের ঘোষণা দেয়া হতো। কিন্তু সেই ঘোষণা তোয়াক্কা করতেন না বাংলাদেশের হক্কানী পীর-ওলামাগণ। সময় সময় মনে হয় বিভেদ সৃষ্টিকারীরা এখনো তত্পর রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সত্যকে বুঝবার এবং সত্যকে আমল করবার তৌফিক এনায়েত করুন। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ।
যুগশ্রেষ্ঠ সূফী কুতবুল আলম হযরত মওলানা শাহ সূফী তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: তাকওয়া ছাড়া জীবন লাগামহীন অশ্বের মতো দিশেহারা হয়, যে কারণে সে দ্রুত পাপ-পঙ্কিলতায় এমনভাবে প্রবিষ্ট হয় যে, তার আলোতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ থাকে না। সিয়াম যে তাকওয়ার শিক্ষা দেয় তা ধরে রাখাতেই জীবনের সফলতা।
ইত্তেফাক/নূহু