বদলগাছীতে প্রকৃত মত্স্যজীবীরা বঞ্চিত!

বদলগাছীতে অমত্স্যজীবীর নামে জলাশয় লিজ দেওয়ায় প্রকৃত মত্স্য চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছে। বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত বড়বিলা জলাশয়টি অমত্স্যজীবী আশিক চৌধুরী শাহিনের নামে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ছয় বছরের জন্য লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অমত্স্যজীবী আশিক চৌধুরী শাহিনকে সভাপতি করে ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর ৮৬৭ নম্বর জাবারীপুরহাট মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লি. গঠিত হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় হতে বাংলা ১৪২৩ হতে ১৪২৮ সাল পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জাবারীপুরহাট মৌজার ৬১০ নং দাগে ৯.৯০ একর, শ্যামপুর মৌজার ৮৫ নং দাগে ৩.৭১ একর এবং একই মৌজার ৮৫ নং দাগে ৪.০৫ একর ও থুপশহর মৌজার ১১১ নং দাগে ১.৭ একর এবং এই মৌজার ৩০২ নং দাগে ৪.২৪ একর সর্বমোট ২৩.৬০ একর বড়বিলা নামীয় জলমহালটি লিজ দেওয়া হয়।

সভাপতি অমত্স্যজীবী আশিক চৌধুরী শাহিনের সঙ্গে কথা বললে জাবারীপুরহাট মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লি.-এর নামে জলমহালটি লিজ নেওয়ার ও মত্স্য চাষের কথা স্বীকার করেন।

মথুরাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী চৌধুরী (টিপু) জানান, জাবারীপুরহাট মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতিসহ সদস্যবৃন্দ অমত্স্যজীবী তারা কি করে সমিতির সভাপতি ও সদস্য হয়।

বদলগাছী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন, জাবারীপুরহাট মত্স্যজীবী সমবায় সমিতিটি নিবন্ধন পান আমার যোগদানের বহু পূর্বেই। এজন্যই তারা মত্স্যজীবী বা অমত্স্যজীবী কিনা এ মন্তব্য করতে পারছি না। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. লুত্ফর রহমান বলেন, সমিতিটির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে পূর্বের উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তার সুপারিশে।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, মত্স্যজীবী সমিতির নিবন্ধন দেওয়া হয় উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তার সুপারিশে। সেই সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তার সুপারিশে হয়তো সমবায় অধিদপ্তর নিবন্ধন দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি বলেন, বিধিমোতাবেক কোনো মত্স্যজীবী সমিতিতে একজনও অমত্স্যজীবী থেকে থাকে তাহলে তারা জলমহাল লিজ-এর টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং সমিতির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।