সাইফউদ্দিন ঝলকে আবাহনীর জয়

জাতীয় দলের হেড কোচ স্টিভ রোডসের মনে ধরেছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডারের উপর অগাধ আস্থা রোডসের। একমাসের ছুটি শেষে গতকাল দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামে আসেন এই ইংলিশ। বলাবাহুল্য, এদিন আবারো বল হাতে ঝলক দেখালেন সাইফউদ্দিন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে কোচের চোখে তার প্রতি থাকা মুগ্ধতাকে আরো রঙিন আবরণে ঢেকে দিলেন এই তরুণ। সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপেই সুপার লিগে টানা তৃতীয় জয় পেলো আবাহনী। গতকাল মিরপুরে প্রাইম ব্যাংককে ছয় উইকেটে পরাজিত করেছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দল। ১৪ ম্যাচে ১১ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আবাহনী। সমান সংখ্যক ম্যাচে ১২ জয়ে শীর্ষে আছে রূপগঞ্জ। আগামীকাল বিকেএসপিতে এই দু’দলের ম্যাচটা হয়ে যেতে পারে লিগ শিরোপার নির্ধারক।

গতকাল আগে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ২২৬ রানে অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক। জবাবে ৪৪.৪ ওভারে চার উইকেটে ২২৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আবাহনী। ৩২ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন সাইফউদ্দিন। মিরপুরের উইকেট সকালে সবসময় বোলারদের সাহায্য করে। টসভাগ্যে জয় পেয়ে প্রাইম ব্যাংককে ব্যাটিংয়ে পাঠান আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক। সেই সিদ্ধান্তের সুফল পেতে সময় লাগেনি। ইনিংসের প্রথম বলেই এনামুল হক বিজয়কে (০) ফেরান সাইফউদ্দিন। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার রুবেল মিয়াও (২) তার শিকার হন। তারপর মাশরাফি-সৌম্যর ছোবলে ৬৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বসে প্রাইম ব্যাংক। সালমান ১৬, আল-আমিন জুনিয়র ১৮ রান করেন।

সপ্তম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন অলক কাপালি ও নাঈম হাসান। তাদের ১১০ রানের জুটিতেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক। কাপালি ১১২ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। তবে একপ্রান্ত আগলে ছিলেন নাঈম হাসান। অপরাজিত ৫১ রান করেন এই তরুণ। মনির হোসেন ১৯ রান করেন। আবাহনীর সাইফউদ্দিন পাঁচটি, মাশরাফি- সৌম্য দুটি করে, মিরাজ একটি উইকেট পান।

২২৭ রানের টার্গেটটা আবাহনীর ব্যাটিং লাইনের সামনে কঠিন কর্ম ছিল না। তারপরও ৫৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসেছিল দলটি। চতুর্থ উইকেটে অভিজ্ঞ ওয়াসিম জাফর ও নাজমুল শান্তর ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় আবাহনী। তাদের ১২২ রানের জুটিতে জয়ের কাছাকাছি চলে যায় দলটি। ব্যক্তিগত ৬৪ রানে নাঈম হাসানের শিকার হন ওয়াসিম জাফর। তবে ম্যাচ শেষ করে এসেছেন শান্ত। ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অপরাজিত ৩৩ রান করেছেন মিঠুন। প্রাইম ব্যাংকের নাঈম হাসান দুটি, রাজ্জাক-আরিফুল একটি করে উইকেট পান। 

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

প্রাইম ব্যাংক: ৪৯.৩ ওভারে ২২৬ (অলক কাপালি ৮০, নাঈম হাসান ৫১*, মনির হোসেন ১৯, আল-আমিন ১৮, সালমান হোসেন ১৬; সাইফউদ্দিন ৫/৩২, সৌম্য ২/৪২, মাশরাফি ২/৫০, মিরাজ ১/৩৬)

আবাহনী: ৪৪.৪ ওভারে ২২৮/৪ (শান্ত ৭৭*, মিঠুন ৩৩*, ওয়াসিম জাফর ৬৪, সাব্বির ২৬, জহুরুল ২৪; নাঈম হাসান ২/৪৯, আরিফুল ১/২৭, রাজ্জাক ১/৬৮)

ফলাফল: আবাহনী ছয় উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা : মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন