ফুটবল মাঠে মোহামেডানের হার এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। ফুটবল মাঠে মোহামেডান হারবে এটাই এখন স্বাভাবিক। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার ফুটবলের প্রথম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আবার হেরেছে মোহামেডান। রহমতগঞ্জ ২-১ গোলে মোহামেডানকে হারিয়েছে।
১৩ দলের মধ্যে মোহামেডানের স্থান এখন ১১ নম্বরে। ১২ খেলায় মাত্র ৬ পয়েন্ট। ১১ নম্বরেও থাকতে পারবে কিনা সেটা নিয়েও আশঙ্কা আছে। কারণ আজকে ব্রাদার্সের খেলা আছে। যদি ব্রাদার্স জিতে যায় তাহলে মোহামেডানের উপরে চলে যাবে। মোহামেডান নিচে নেমে আসবে। লিগের প্রথম খেলায় জয় দিয়ে শুরু করেছিল মোহামেডান। তারপর আর জয় দেখেনি সাদাকালো মোহামেডান। প্রথম পর্ব শেষ করল ১ জয়, ৩ ড্র এবং ৮ হার নিয়ে। ফুটবল বোদ্ধারা বলছেন মোহামেডানের ইতিহাসে এতো খারাপ অবস্থা আর কখনো হয়নি। ১২ খেলায় মাত্র ৬ পয়েন্ট। ৭৪ সালে মোহামেডান প্রথম ফুটবলের সুপার লিগে উঠতে পারেনি। সেবারও এমন দুরবস্থা ছিল না। ৮৩ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবলেও বাজে সময় গেছে মোহামেডানের। ৮৫ সালে আবাহনী হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হলো। ব্রাদার্স রানার্সআপ এবং মোহামেডান তৃতীয় হয়ে লিগ শেষ করল। ৮ ম্যাচে হার প্রথম পর্বে সেটা মানতে পারছেন না মোহামেডান ভক্তরা। মোহামেডানের ফুটবল ইতিহাস কলঙ্কিত হচ্ছে।
গতকাল রহমতগঞ্জের জয় যতটা না আলোড়িত করল তার চেয়ে মোহামেডানের হার আরো বেশি সমালোচিত হলো। দলের ফুটবলাররাই বলছেন এখানে কোচের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। এখানে কোচ মরিনহোকে আনলে কোনো লাভ হবে না। কারণ এমন সব ফুটবলার নিয়ে দল গড়া হয়েছে যাদের দিয়ে চাইলেও কিছু হবে না। তার ওপর কাজের স্বাধীনতা নেই একথা আগেই জানিয়ে গেছেন দল ত্যাগ করা কোচ আলী আজগর নাসির। তার কথাই মিলে যাচ্ছে। মোহামেডান এবার নিয়ে তিনবার কোচ পরিবর্তন করল। এখন অস্ট্রেলিয়ান কোচ সিনলেন দায়িত্ব পালন করছেন। এই কোচ কাল খেলা শেষে আক্ষেপ করলেন। পুরো দলের ওপরই দায় দিলেন তিনি। ডাগ আউটে সাইড বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন কোচ। হতাশার কথাগুলোই ফুটে উঠল তার কণ্ঠে। পুরো দলটাই কোচের অপছন্দ। লিগের বিরতি আছে। এসময়ে কিছু কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করবেন। বিদেশি খেলোয়াড়ও পরিবর্তন করতে চান কোচ। এসব কথা যখন বলছিলেন তখন পেছনে মোহামেডানের নিজেদের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা। দেশিরা বিদেশি ফুটবলারদের দোষ দিচ্ছেন আর বিদেশিরা দেশিদের দোষ দিলেন। এরই ফাঁকে উধাও দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু।
মোহামেডান ৪ মিনিটে গোল হজম করে। রহমতগঞ্জের সিউ জুনাপিওর ঠেলে দেওয়া বলে মোহামেডান ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে গোল করেছেন ফয়সাল আহমেদ ১-০। ১১ মিনিটে গোল শোধ করে মোহামেডান। মোহামেডানের নাইজেরিয়ান অধিনায়ক এনকোচা কিংসলে চিগোজির উত্স থেকে হাবিবুর রহমান সোহাগ ভলি করে গোল করেন ১-১। পিছিয়ে থাকা মোহামেডান এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পেনাল্টি পেয়ে। কিংসলে পেনাল্টি মারলেন বাইরে। এটা নিয়ে আক্ষেপ করলেন মোহামেডান কোচ সিনলেন। বললেন, ‘ওটা গোল করতে পারলে ম্যাচটা ঘুরে যেত।’ ৭৫ মিনিটে রহমতগঞ্জ গোল করে। উইং থেকে আসা বলে জুনাপিও গোল করেন ২-১। কঙ্গোর এই ফরোয়ার্ড গোল করালেন; গোল করলেন।
রহমতগঞ্জের কোচ গোলাম জিলানী খেলা শেষে বলেন, ‘আমরা জেতার জন্যই নেমে ছিলাম। কারণ হারলে অনেক পিছিয়ে যাব। জয় পেয়ে ভালো অবস্থানে যাব। এসব ভেবেই আমরা অলআউট ফুটবল খেলেছি।’ ১২ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখন ৯ নম্বরে। কাল ছিল রহমগঞ্জের দ্বিতীয় জয়।
আজকের খেলা: ব্রাদার্স ও আরামবাগ। ৩.৩০, ময়মনসিং। শেখ রাসেল ও বিজেএমসি। ৩.৩০, নোয়াখালী।