ভারতের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর থেকেই ঋশাভ পান্ত ও আম্বাতি রাইডুর দলে জায়গা না পাওয়া এবং দলে বিজয় শঙ্করের জায়গা নিয়ে দেশটিতে বইছে আলোচনার ঝড়। এরপর ভারতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মানভ প্রসাদ জানিয়েছিলেন দলে ত্রিমাত্রিক ভূমিকা পালন করবেন বিজয়। এবার অধিনায়ক বিরাট কোহলিও প্রায় কাছাকাছি মন্তব্যই করলেন। জানালেন বিজয়ের অন্তর্ভুক্তি দলে দারুণ ভারসাম্য আনবে।
বিজয়ের দলে আসার ফলে দলের ব্যাটিং অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চার নম্বরে কে খেলবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কোহলি জানালেন, এ ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেবে দল।
সমপ্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কোহলি বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু চেষ্টা করেছি। যখন বিজয় এলো তখন সে তিনটা মাত্রায় পারফর্ম করলো। সে ব্যাট করতে পারে, বোলিং করতে পারে, ফিল্ডিংও করতে পারে। সে একজন উপযুক্ত ব্যাটসম্যান, যেটা আমাদের হাতে বিকল্প এনে দেয়। এটা দলে ভারসাম্য আনে যা অন্যান্য দলে অনেক বছর ধরেই আছে। এই দৃষ্টিকোণ আমরা সবাই রাজি হয়েছি।’
প্রসাদ জানিয়েছিলেন বিজয় চার নম্বরেই প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকবেন, লোকেশ রাহুল ও দীনেশ কার্তিক থাকবেন বিকল্প হিসেবে। কোহলি এর সঙ্গে যোগ করে বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা কেমন রূপ নিয়ে যাবো তা আমরা সমাধান করে ফেলেছি। কে কোথায় ব্যাট করবে সে প্রশ্ন ভবিষ্যতের জন্য তোলা রইলো।’
সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সামগ্রিক পারফর্মেন্স সামপ্রতিক সময়ে কিছুটা ম্লান। তবে এই সময়ে অধিনায়ক কোহলিকে ঠিকই পাশে পাচ্ছেন তিনি। কোহলির ভাষায়, ‘এটা এমন কিছু নয় যে আমরা তাকে সুযোগ দিচ্ছি। সে যোগ্য হিসেবেই আছে। তার জীবনে ও ক্রিকেটীয় জীবন কেমন যাচ্ছে তা বুঝার জন্য যথেষ্ট বুদ্ধিমান সে। তাকে তার নিজের মতো করে কিছুটা জায়গা দেয়া প্রয়োজন, যার জন্যে একটা সময় মানুষজনের ধৈর্য ছিল না। কিন্তু ১২ মাস পরে এখন ঠিকই বলছে যে, সেই বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যা পুরোপুরি সত্যি। আমরা এটা আগ থেকেই জানতাম।’
অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে আসার পর নতুন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত তিনি। তৃতীয়বারের মত উইজডেন বর্ষসেরা হওয়া এই ক্রিকেটার বলেন, ‘এটা এমন এক প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে যাতে আমাকে অনেক কিছুতে সংযুক্ত হতে হবে। ২০১১ সালে অনেক কিছুতে আমি যুক্ত ছিলাম না। এমনকি ২০১৫ সালেও একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকা ছিলাম যেখানে আমাকে সবকিছুতেই যুক্ত হতে হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন অধিনায়কের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিযোগিতাটাকে দেখা, এর বিশালত্ব বুঝা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যাপার। যখন আপনি অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেন, একটা সময় বড় চ্যালেঞ্জের প্রয়োজন হয় আপনার, আর বিশ্বকাপের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর কিছু হতেই পারে না।’