ধর্মপাশায় বোরো ধানে চিটা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় আগাম লাগানো ব্রি-২৮ জাতের ধান এবার আর পুষ্ট হয়নি। ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বেশিরভাগ ক্ষেতে ধান মরে সাদা হয়ে শিষ ঝুলে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় পাকা ধানে ক্ষেত ভরে রয়েছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় চালবিহীন সাদা চিটায় ভরা শিষ শুকিয়ে ঝুঁকে পড়েছে।

ঘুলুয়া গ্রামের বর্গাচাষি রসু মিয়া ও মোশারফ হোসেন জানান, ধান ক্ষেতে প্রথমে পাতা মরে যায়, পরবর্তীতে চিটা হয়ে ধানের শিষ বের হতে থাকে। কৃষকরা নানা রকম ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

জমির মালিক মো. ইউনুছ আলী জানান, প্রায় ৪ একর জমি তিনি ওই এলাকার রসু মিয়া ও মোশারফ হোসেনসহ কয়েকজন কৃষকের কাছে বর্গা দিয়েছেন। ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় তিনি অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তিনি আরো জানান, ৮ একর জমির ব্রি-২৮ জাতের ধান মাড়াই করে মাত্র ৮০ মণ ধান পেয়েছেন। সে হিসাবে একরপ্রতি ফলন হয়েছে মাত্র ১০ মণ। অথচ বরাবর ওই জমিতে ৩৫০ থেকে ৩৯০ মণ ধান হয়। মেউহারী গ্রামের কৃষক খুরশিদ মিয়া জানান, এবার বাড়ির পাশের জাবরা হাওরে ২০ একর জমিতে তিনি বোরো ধান চাষ করেন। এর মধ্যে ১১ একর জমির ধানেই চিটা হয়েছে। উপজেলার কয়েক হাজার কৃষকেরই উঠতি বোরো ধান নিয়ে এমন বিপর্যয়ে তারা এখন দিশেহারা।

ধর্মপাশা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৩১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়। এর মধ্যে চিটা হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলে। তবে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকৃত আক্রান্ত জমির পরিমাণ আরো বেশি। বিশেষ করে ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম, শাসকা, ধানকুনিয়া, সোনা মড়ল, কাইল্যানি, ঘোড়াডুবা, শৈল চাপড়া, বাইন চাপড়া, টগার হাওরের কয়েক হাজার একর জমির ফসল চিটায় পরিণত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, বিআর ২৮ ধান যারা ১৫ নভেম্বরের আগে রোপণ করেছেন তাদের ধানই কিছু নষ্ট হয়েছে। তা ছাড়া সময়ে বৃষ্টি না হওয়া এবং রোপণের পর শীতও চিটা দেখা দেওয়ার কারণ। তবে জেলার প্রায় উপজেলায় তেমন কোনো চিটা দেখা দেয়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি এবং দিনে ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকায় বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণকালে বোরো ধানের চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়। ফলে ধানে ব্যাপক আকারে চিটা দেখা দিয়েছে। এটা বীজের কোনো সমস্যা নয়, এটা হলো শীতজনিত সমস্যা। উপজেলার হাওরে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত কারণে কিছু কিছু এলাকায় ব্ল­াস্ট দেখা দিলেও ধানের মড়ক ও বালাই নিয়ন্ত্রণে আছে।