অভিবাসন ইস্যুতে বিভক্ত ইইউ নেতারা

শরণার্থী ইস্যু সামলানো ও অভিবাসী গ্রহণ করার বিষয়ে বিভক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ইইউ নেতাদের অভিবাসন বিষয়ক বৈঠক। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তারা। খবর আল জাজিরার।
 
খবরে বলা হয়, ইউরোপগামী শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না ইইউ নেতারা।
 
ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, পুরো সিদ্ধান্তে এক সদস্য তাদের অবস্থানে অটল থাকায়, এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
 
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ওই সদস্য-দেশটি হচ্ছে ইতালি। 
 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠক সম্বন্ধে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল টাস্ক ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জিন-ক্লড জাংকারের। সংবাদ সম্মেলনটি বাতিল করা হয়েছে। 
 
অবশ্য এক ফরাসি কূটনীতিক বলেছেন, ফ্রান্স ও ইতালিসহ অন্যান্য ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলো অভিবাসন বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিতে পৌঁছেছে। 
 
ওই কূটনীতিক বলেন, চুক্তির খসড়ায় সম্মতি প্রদান করেছে মালটা, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। তবে পরবর্তীতে ডাচ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, তারা এই প্রস্তাবিত চুক্তির সঙ্গে একমত নয়। এর আগে আরো একটি চুক্তির প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলে রোম সেটিতে রাজি হয়নি।
 
ফরাসি কূটনীতিক সাংবাদিকদের বলেন, যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার সবকিছু আমি আপনাদের বলতে পারবো না। কিন্তু এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে আমরা ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি ও ‘নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রের’ বিষয়ে অগ্রগতি করতে সক্ষম হয়েছি। আর এতে ইউরোপের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। 
 
IMG0
 
এদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিউসেপ্পে কন্তে বলেন, ইইউ নেতারা যদি ইতালিকে সাহায্য না করতে পারে, তাহলে তিনি ব্রাসেলসের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। 
তিনি বলেন, ইতালির আর কথার প্রয়োজন নেই, দৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজন। 
 
তিনি আরো বলেন, এটা একটা সম্ভাবনা। আমি আশা করি এমনটা বিবেচনা করতে হবে না। কিন্তু যদি আমরা ওই অবস্থায় পৌঁছাই, তাহলে আমার পক্ষে থেকে আমরা যৌথ সিদ্ধান্তে পোঁছাতে পারবোনা। 
 
IMG1
 
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল জানান, এই আলোচনা জোটটির জন্য গড়া বা ভাঙ্গার মুহূর্ত।
 
মার্কেল বৃহস্পতিবার জার্মান পার্লামেন্টে বলেন, ইউরোপে যাওয়া শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিষয়ে একটি সমাধান বের করার ওপর ইইউ’র ভাগ্য  নির্ভর করছে। 
 
তিনি বলেন, ইউরোপ পূর্বে বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু এই অভিবাসন ইস্যুটি ইইউ’র জন্য ভাঙ্গা বা গড়ার মুহূর্তে হয়ে দাঁড়াতে পারে। হয়তো আমরা এটি সামলাবো, যাতে করে আফ্রিকার বাসিন্দারা এটা বিশ্বাস করতে পারে যে, আমরা মূল্যবোধ মেনে চলি ও জোটবদ্ধতায় বিশ্বাস করি, একতরফা সিদ্ধান্তে নয়। অন্যথায়, যে পদ্ধতি আমাদের মজবুত করেছে তার ওপর আর কেউ বিশ্বাস করবে না। এজন্যই এটা এত গুরুত্বপূর্ণ।
 
 
ইত্তেফাক/ জেআর