ছোট ভাইকে অপহরণ করে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ব্যবসার পুঁজি বাড়াতে ছোট ভাই ফাহাদ জামিল কে নিয়ে যাই এবং বাবার কাছে টাকা চাই কিন্তু বাবা টাকা না দেওয়ায় ফাহাদকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নেই। আমি বুঝতে পারি নাই ঘটনাটি এতো বড় আকার ধারণ করবে। এভাবেই নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় বাবা, ভাই ও আত্মীয়-স্বজনদের সামনে আপন ছোট ভাই কে অপহরণচক্রের হোতা মারুফ জামিল অকপটে স্বীকার করে অপহরণের সকল তথ্য।

আটককৃত অপর অপহরণকারী  সিজান ওরফে মহসিন এবং সোহান শেখ একই ভাবে স্বীকার করে তাদেরকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মারুফ জামিল তার ভাই ফাহাদ জামিলকে অপহরণ করতে চক্রান্ত করে।  টাকা না পেলে ছোট ভাইকে হত্যা করে মুন্সীগঞ্জের নদীতে ফেলে দেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল তাদের। এরই মধ্যে পুলিশ ও র্যাব তাদেরকে গত বৃহস্পতিবার রাতে আটক করে।

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহাদ জামিলকে অপহরণ করে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে তারই বড় ভাই ও আরো দুইজন সহযোগীকে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত)  মিজানুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূইয়াপাড়া এলাকার মো: মনির হোসেনের ছেলে ফাহাদ জামিল নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। সে গত বুধবার সকালে স্কুলের উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হয়। স্কুল থেকে সন্ধায় বাসায় ফেরার কথা থাকলেও সে আর বাসায় ফিরেনি। পরবর্তীতে সন্ধা ৭ টায় অপরিচিত একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফাহাদের বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে আপনার ছেলেকে জীবিত ফেরত চাইলে রাত ৯ টার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে। যদি এই বিষয়টি থানায় জানানো হয় তাহলে ফাহাদকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে।

একথা বলে সাথে সাথেই নাম্বারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার রাতেই বড় ভাই মাছুম জামিল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অপহূত ফাহাদ জামিল কে উদ্ধার ও আপন ভাই অপহরণের হোতা মারুফ জামিলসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দারোগা আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি লোমহর্ষক। এ বিষয়ে আরো তথ্য উদঘাটনের জন্য আপন ভাইয়ের অপহরণকারী বড় ভাই মারুফ জামিল (৩০), সহযোগী সোহান (২৬) ও জিসান ওরফে মহসিনকে (৩০) কে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ভিকটিম ছোট ভাই ফাহাদ জামিলকে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের লক্ষ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।