গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চেয়েও অনেক ভাল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের রাউন্ড টেবিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত 'জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা দয়া করে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে নাক গলাবেন না। এটা কোনো স্বাধীন দেশের জন্য কল্যাণকর এবং গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের গণতন্ত্র ৭০ বছরের বেশি পুরানো । সেই ভারতের পার্শ্ববর্তী অগ্রসর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে কদিন আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনের আগেই তৃনমূলের ৩০ শতাংশ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছে এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতায় ছয় জনেরও বেশি লোক মৃতুবরণ করেছে। সেখানকার তুলনায় গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনেক সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে।
বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানিয়ে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনাদের কোন পরামর্শ থাকলে তা আপনারা সরকারের সঙ্গে যখন বৈঠক হয় সেখানে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু জনসম্মুখে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখা সমীচীন নয়।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হলো। আর বিএনপি এমন একজন প্রার্থী দিলেন যাকে দুইজন ধরে উঠাতে এবং বসাতে হয়। যার পরিবার আহসান উল্লাহ মাস্টারের খুনের সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং যে প্রার্থী চলনক্ষম নয় সেই প্রার্থীর দলও তাকে নিয়ে হাটতে চলতে পারবে এমন মনে করারও কোন কারণ নাই।
বিএনপি নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনারা বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টিকে বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বানাবেন না এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের বিভ্রান্ত করার পথ পরিহার করে নিজেদের দলের ঐক্য এবং সংহতি প্রতিষ্ঠা করুন।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা শিহাব রিফাত আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েত ইসলাম স্বপন, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, শাহাদাত হোসেন টয়েল, অরুন সরকার রানা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি