স্বস্তির শাস্তি!

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাছ আলীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে জানুয়ারি-জুন ২০১৯ থেকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত মোট ৮ সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে টানা ৪ বছর কোনো কাজ না থাকলেও তিনি এই সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরো বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একারণে তাকে চাকরিচ্যুত ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা একে ‘স্বস্তিদায়ক শাস্তি’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূর উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, দুই ছাত্রীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শেষবর্ষের দুই ছাত্রী দেড়মাস আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনা প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে এই ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলো।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শৃঙ্খলা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন একটি গোপনীয় বিষয়। দুই ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি জানান, শাস্তি চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে কোনো কাজ করতে হবে না। তবে পূর্ণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য যত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন সেটা অব্যাহত থাকবে।