ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের প্রার্থীদের মধ্যে ৫৭০ জনই ফৌজদারি মামলার আসামি। এই ধাপে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন ৯০ জন প্রার্থী। যাদের ৪০ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। বিজেপির ৯৭ প্রার্থীর ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল ১৫ রাজ্যের ১১৬ আসনে তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। এসব আসনে প্রার্থী হয়েছেন ১৬১২ জন। তাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশির বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অপরাধের মামলা। গতকাল শুক্রবার অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর) এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের তথ্যমতে, হলফনামা অনুযায়ী কংগ্রেস প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই রয়েছে বেশি মামলা। এরপরেই আছে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রার্থীরা। সবচেয়ে কম মামলা রয়েছে বামপন্থি সি পি আই এম-এর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।
মামলা রয়েছে এমন প্রার্থীদের ১৪ জন জানিয়েছেন তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ১৩ জন জানিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। নারী, শিশুদের হয়রানি ও ধর্ষণের মতো অভিযোগ রয়েছে ২৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আর বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের জন্য মামলা রয়েছে ২৬ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে ১১৬ আসনের মধ্যে ৬৩টি ‘রেড অ্যালার্ট’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। এসব আসনে তিন বা এর চেয়ে বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। এডিআরের তথ্য অনুযায়ী ৩৯২ প্রার্থীই কোটিপতি।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিখোঁজ
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় ইভিএমের দায়িত্বে থাকা অর্নব রায় নামে এক নির্বাচনী কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নদিয়ার শান্তিপুরে তাকে শেষবার দেখা গেছে। এদিকে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণে পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার পর পরবর্তী ধাপের ভোটগুলোতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ আসনে ভোট হবে।
মায়াবতীর মুখে মুলায়মের প্রশংসা
জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলোচনায় পিছিয়ে নেই আঞ্চলিক দলগুলো। উত্তর প্রদেশে এবার সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির জোট সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। প্রায় ২৫ বছর পর একইমঞ্জে উঠেছেন দুই চিরবৈরী দলের নেতা মুলায়ম সিং যাদব এবং মায়াবতী। মৈনপুরীর জনসভায় মুলায়মকে প্রশংসাতেও ভাসিয়েছেন মায়াবতী। তিনি বলেন, মুলায়ম সিং যাদব পিছিয়ে পড়া মানুষের সত্যিকারের নেতা, মোদির মতো ভুয়ো নন। অন্যদিকে দলীয় সমর্থকদের মায়াবতীর পা ছুঁয়ে দেখার পরামর্শ দেন মুলায়ম। বিজেপিকে ঠেকাতে অকল্পনীয়ভাবে জোট করেছে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি। এই জোটের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন অখিলেশ যাদব। যদিও জোটের বিরোধী ছিলেন মুলায়ম। তবে শেষ পর্যন্ত এই জোটের পক্ষে নেমেছেন তিনি। এর ফলে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল উত্তর প্রদেশে ভোটের হিসাব বদলে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।