কাউন্সিলর ডিস বাবুর গ্রেফতারের পর এবার সাংসদ শামীম ওসমানের আরেক ঘনিষ্ঠজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভূইগড়ের রূপায়ন টাউনে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়।
ভূইগড় রূপায়ন টাউনের ফ্ল্যাট মালিক আবু সাঈদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়াও আশার সিদ্দিকী নামে একই এলাকার বাসিন্দা আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এতে নাজিম উদ্দিনকে আসামি করা না হলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ৬০জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন। তিনি জানান, রূপায়ন টাউনে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর একটির বাদী আবু সাঈদ পাটোয়ারী এবং অপরটির বাদী আশরাফ সিদ্দিকী। এরমধ্যে আবু সাঈদ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন। এছাড়া আশরাফ সিদ্দিকী ১১ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০/৬০ জনকে আসামি করেছেন।
আসলাম হোসেন আরও জানান, বাদীরা তাদের অভিযোগে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, রূপায়ন টাউনের একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগেছিলো। সেখানে মমিনুল ইসলাম নামের একজন গেলে একদল লোকের দ্বারা তিনি লাঞ্ছিত হন। এর প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী দল বিভিন্ন ফ্ল্যাটে গিয়ে হামলা চালায়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আব্দুস সালামসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। মামলায় উল্লেখিত আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, এমন কোনো ঘটনা আমার চেনা জানা কেউ ঘটায়নি। এসব অন্য কেউ ঘটিয়ে আমার উপরে দায় চাপাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাকে কেন সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে সেটি আমি জানি না। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সাইনবোর্ড এলাকার একটি পক্ষ আমার বিপক্ষে অনেকদিন ধরে আমার পিছনে লেগে আছে। এটি সেই গ্রুপের কাজ। এর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর ওরফে ডিস বাবুকে একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত বাবুকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি