পিরোজপুরের নাজিরপুরে শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন

গতকাল শুক্রবার বিকালে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা নামক স্থানে তালতলা নদীর উপরে শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম এমপি। নাজিরপুর-বৈঠাকাটা সড়কের উপর এ সেতু নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মোট ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ৩৬০ মিটার দীর্ঘ ও ৮.৪ মিটার প্রশস্ত এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। শুরুর পর ডিজাইনে ত্রুটি ও তত্কালীন ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাজটি পুনরায় শুরু করে সমাপ্তির পর সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো। সেতুটি নির্মাণের ফলে শুধু নাজিরপুর উপজেলা নয়, পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলা ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সঙ্গেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ঘটলো। এতে নাজিরপুর উপজেলার ভাসমান ও কান্দি বেড়-এর উত্পাদিত সবজিসহ এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ইকো টুরিজমের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।

শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধনের পর মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম দির্ঘায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি দির্ঘা বাজার থেকে ঘোষকাঠি হাইস্কুল সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে দুপুরে মন্ত্রী নাজিরপুর উপজেলার পূর্ব কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার এবং নাজিরপুর সদর থেকে শাঁখারিকাঠী ইউপি সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

দুই মন্ত্রীর পিরোজপুরের বিভিন্ন নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী জাহিদ ফারুক গতকাল পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। সকালে তারা জেলা শহর সংলগ্ন বলেশ্বর নদের ভাঙন কবলিত স্থান ঘুরে দেখেন। এরপর স্পিডবোটে করে নাজিরপুর উপজেলার কালীগঙ্গা ও বেলুয়া এবং নেছারাবাদের সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত বন্দর ও বাজার এলাকা সরেজমিনে দেখেন। এসময় বলেশ্বর নদী খনন এবং পিরোজপুর শহর রক্ষা বাঁধসহ অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া তীব্র নদী ভাঙনের হাত থেকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাচীন ব্যবসাকেন্দ্র ইন্দুরহাট, শ্রীরামকাঠি ও বৈঠাকাটা বাজার রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে দুই মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীবৃন্দ ছাড়াও এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।