আফ্রিকার দেশ সুদানে তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর প্রেসিডেন্ট উমর আল বশির যুগের অবসান হয়েছে। ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে বশিরকে সরিয়ে দেয়া হলেও তার স্থলে সেনা নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জায়গা নিয়েছে।
তবে দেশটির জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তোরণের জন্য একটি বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিতে এখনো বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় বশির সরকারের অন্যতম মিত্র তুরস্ক দেশটিতে শান্তিপূর্ণ পালাবদল চেয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম আনাদুলু এ খবর দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তুরস্ক বলেছে, বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠায় সুদানের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে তুরস্ক সবসময়ই সমর্থন করে। দেশটির এমন অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত সুদানের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আহমেদ আল তাইয়েব এল কোরদোফানি। তিনি বলেছেন, সুদানি জনগণের প্রতি তুরস্কের সমর্থনকে আমরা স্বাগত জানাই।
আরও পড়ুন : স্ত্রীকে মারধরের কথা বলে ইসলাম, সমালোচনার মুখে সমাজতাত্ত্বিক
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কিং আয়োজিত এক সভায় কোরদাফানি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তুরস্ক ও সুদানের মধ্যে দারুণ এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। সুদানের জনগণ বড় রক্তপাত ছাড়াই দেশের শাসকদের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
এখন মিলিটারি কাউন্সিল বলছে, তারা আগামী দুই বছর দেশের শাসন ক্ষমতায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। কোরদাফানি বলেন, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ বুরহান দায়িত্ব গ্রহণের পরই কার্ফিও তুলে নিয়েছেন। তিনি অঙ্গীকার করেছেন মানবাধিকার সমুন্নত রেখে দ্রুতই বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
তিনি বলেন, আলোচনার দরজা খুলতে বুরহান ইতোমধ্যে বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বহুদলীয় পরিবেশ তৈরি হওয়ার পরস দুই বছরের মধ্যে একজন বেসামরিক প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি।
ইত্তেফাক/কেআই