মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিমের পলেস্তারা ধ্বসে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর ১০দিন যাবৎ ওই বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি কক্ষে তালা দিয়ে পাঠদান বন্ধ রেখেছে প্রশাসন । ফলে ছাত্রছাত্রীরা গাছতলায় বসে পাঠ গ্রহণ করছে।
জানা যায়, রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ৮৭ নং পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৭৪ সালে নির্মিত হয়। এ বিদ্যালয়ে ৭৪জন ছাত্রছাত্রী ও ৪জন শিক্ষক রয়েছে। গত ১১ এপ্রিল টিফিনের সময় হঠাৎ ওই বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ বিমের খণ্ড খণ্ড পলেস্তারা খসে পড়ে। এ সময় ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী সমতা সরকার আহত হয়।
বিষয়টি গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা উপজেলা পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত মাসিক শৃংখলা সভায় তুলে ধরেন ইত্তেফাকের টেকেরহাট সংবাদদাতা। কিন্তু সভায় প্রশ্ন করা হলে শিক্ষা অফিস প্রতিনিধি ‘কিছুই জানেন না’ বলেন। তখন ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পুনরায় দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহানা নাসরিন ঐ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের তিনটি ক্লাসরুমে তালা লাগিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া ও পাঠদান অব্যাহত রাখতে টিনের ঘর নির্মানের নির্দেশ দেন।
এ নির্দেশের পর ১০দিন পার হতে চললো। এখনও ওই বিদ্যালয়ে টিনের চালা ঘর নির্মিত হয়নি। ফলে শিশু শিক্ষার্থীরা এখন গাছতলায় বসে পাঠদান নিচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, ‘এক প্রবাসী যুবকের অনুদান ও সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত টিনের ঘর নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন জানান, ‘পুনরায় দুর্ঘটনা এড়াতে ঐ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের তিনটি ক্লাসরুমে তালা লাগিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাঠদান অব্যাহত রাখতে টিনের ঘর নির্মানের নির্দেশ দিয়েছি।’
আরও পড়ুনঃ নলছিটির ভাঙ্গা সেতু জনগণের ভোগান্তি
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি আমি পরিদর্শন করেছি। শিক্ষাদান অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ইত্তেফাক/নূহু