মোবাইলে রং নাম্বারে প্রেম করে বিয়ে করেছিল মুন্নি। কিন্ত প্রেমের সে বিয়েই কাল হল তার।অপহরনের পর এখন সে মৃত না জীবিত তা নিয়ে পুলিশও পড়েছে বিপাকে। আনোয়ার হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের প্রথম স্ত্রী রেহেনা আক্তার (২৫) ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী মিলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তারকে (২২) নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে অপহরনের পর হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার এক মাস ৭ দিন পরও পুলিশ মুন্নির কোন সন্ধান করতে পারেনি।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামে মুন্নির বাপের বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে। পুলিশের কাছে বারবার মিনতি করেও কোন ফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে পরিবারের পক্ষ থেকে।
আজ শুক্রবার মুন্নির পিতা মো. রায়েজ আলী বেপারী (৪৫) ও ঐ গ্রামের সাবেক মেম্বার মো. তমছের আলী (৫৫) ঘটনার সত্যতার কথা জানিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২ নং জামুর্কি ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামে মুন্নির বাড়ি। আনোয়ারের বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ব্র্যাক্ষন্দী শ্রীনগর গ্রামে। মোবাইলে আনোয়ার তার প্রথম স্ত্রী রেহেনার কথা গোপন রেখে মুন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়।
প্রেমের টানে শেষ পর্যন্ত মুন্নিকে তার বাপের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আনোয়ার পুর্বের স্ত্রীর কথা গোপন রেখে মুন্নি তার প্রথম স্ত্রী উল্লেখ করে কাবিনমূলে বিয়ে করে। এই ঘটনা প্রথম স্ত্রী রেহেনা বেগম জানতে পেরে মুন্নির উপর ক্ষিপ্ত হয়। আনোয়ারের নামে কোর্টে মামলা দিয়ে মুন্নিকে হত্যার হুমকি দেয়।
প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আনোয়ার গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
মুন্নির পিতা রায়েজ আলী বেপারী অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী রেহেনা আক্তার, সফর আলী, হেলেনা বেগম, করিমন, তাইজুদ্দিন, হাছেন বানুসহ তার আত্বীয়-স্বজন প্রতারণার ফাঁদ পেতে মুন্নির সঙ্গে ভাল ব্যবহার শুরু করে। প্রতারনার ফাঁদে ফেলে তারা মুন্নিকে বলে, তোমাকে ও তোমার সহযোগিতা ছাড়া আনোয়ারের জামিন হবে না। তুমি আমাদের সঙ্গে কোর্টে চলো। মুন্নি প্রথমে রাজি না হলেও স্বামী জামিনে ছাড়া পাবে এই ভেবে গত ৯ জুন রেহেনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোর্টে রওনা দেয়। পথিমধ্যে রেহেনা ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নিকে কোর্টে না নিয়ে সোনারগাঁও উপজেলার বারদী এলাকায় হাত-পা ও মুখে রুমাল বেঁধে রিকসা থেকে নামিয়ে নেয়। তারপর নদীতে একটি ট্রলারে উঠিয়ে রওয়ানা দেয়।
নদীর মাঝপথে নিয়ে মুন্নির হাত-পা ও মুখের রুমাল খুলে গেলে কৌশলে মুন্নি তার পিতার কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ঘটনা খুলে বলে। এ সময় রেহানা ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নির কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। তারপর থেকে থেকে অদ্যাবধি মুন্নির কোন হদিস নেই।
মুন্নির পিতা রায়েজ বেপারীর অভিযোগ, প্রথম স্ত্রী রেহেনা ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নিকে কৌশলে অপহরনের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অনেক খোঁখুঁজির পরও মুন্নিকে না পেয়ে আনোয়ারের বোন সহিতুন বেগম (৪০) বাদী হয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় গত ১৪ জুন অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৪/১৮৭। মামলার পর পুলিশ করিমুন, নুর জাহান, রেশমী ও কামাল হোসেনকে আটক করেছে। তবে অপহরনের মুল হোতা রেহেনা এবং তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী খুনীরা রয়েছে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানায় মামলার পর কয়েকজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।মুন্নির কোন সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/নূহু