ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর: বিক্ষোভ, বিতর্কিত সাক্ষাৎকার, সমালোচনা

চারদিনের জন্য যুক্তরাজ্য সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে পৌঁছানোর তার সফর নিয়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিক্ষোভকারীরা আগ থেকেই বিক্ষোভের সতর্কবাণী শুনিয়েছেন। ট্রাম্প ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি পৌঁছানোর পর সেখানে বিক্ষোভ করে তাদের স্বাগতমও জানিয়েছেন তারা। এসবের মধ্যে নানা কীর্তি দিয়ে তাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ও সমালোচনা বাড়িয়েই তুলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 
 
দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনার কারণে দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যাশিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি না-ও হতে পারে। তার এমন মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, মে প্রত্যাশা করছিলেন ট্রাম্পের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে। 
 
ট্রাম্প সানকে বলেন, মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাতিল করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র  ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করবে। তবে তার এমন মন্তব্যে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি মে’র কার্যালয়। 
 
যুক্তরাজ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই ট্রাম্পের প্রথম সফর। মে চেষ্টা করছিলেন এই সুযোগে তার সঙ্গে একটি চুক্তি আদায় করে নিতে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের বৃদ্ধির জন্য ব্রেক্সিট একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। দু’জনের মন্তব্যের মধ্যকার এমন তফাৎ, জনমনে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে যে, আদৌ কোন চুক্তি স্বাক্ষর হবে কিনা!
 
IMG0
 
এদিকে, ট্রাম্প আরও মন্তব্য করেছেন যে, থেরেসা মে’র চেয়ে ভালো প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন সম্প্রতি পদত্যাগ করা সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। জনসনকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যেসব গুণ থাকা দরকার, তার সেগুলো আছে।
 
এতটুকুতে থামেননি ট্রাম্প। তার সমালোচনার থাবা থেকে বাদ যাননি লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও। ট্রাম্প বলেন, গত বছর লন্ডনে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা থামাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন সাদিক খান। 
 
এসবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয়েছে ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ। কোথাও উড়ানো হচ্ছে, ট্রাম্পের আকৃতি অনুকরণ করে বানানো বেলুন। কোথাও বিক্ষোভকারীরা হাতে ট্রাম্প-বিরোধী প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। 
 
এদিকে, ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার পর, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী মে’কে পছন্দ ও শ্রদ্ধা করেন। তিনি কখনোই তার বিরুদ্ধে অসম্মানজনক কিছু বলেননি। 
 
IMG1
 
ট্রাম্প অবশ্য বহু আগ থেকেই ব্রেক্সিটের পক্ষপাতী। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রিটেনের মানুষ যে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, এই ব্রেক্সিট তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। 
 
ট্রাম্প বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের ইতিমধ্যেই অনেক ইস্যুতে সমস্যা চলছে। তারা বাণিজ্য বিষয়ে আমাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করছে না।
 
ট্রাম্প জানান, তিনি মে’কে কিভাবে ব্রেক্সিট করা উচিত সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু মে তার কথা শোনেননি। ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/ জেআর