ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বেনাপোল রেল স্টেশন চেকপোস্ট কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রের দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে দুই দিনে ১৯টি ডিটেনশন মেমোর (সাময়িক আটক পত্র) মাধ্যমে এসব মালামাল জব্দ করেন। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে- শাড়ি, থ্রিপিস, জুতা, কসমেটিকস, চকোলেট, আগরবাতি ও বিভিন্ন ব্যান্ডের ভারতীয় মদ। তবে ভারতীয় ব্যাগেজ পার্টির কাছ থেকে আটককৃত মালামালের কোনো ডিটেনশন মেমো দেয়া হয়নি। তাদের কাছ থেকে আটক মালামালের কোনো ভারতীয় দাবীদার না হওয়ায় সেসব মালামাল মালিক বিহীন ভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ব্যাগেজ ব্যবসার সহায়তা করে আসছিল। ব্যাগেজ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হওয়ায় কাস্টমস এবং বিজিবি‘র অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার ভুয়া পরিচয় দিয়ে এসব সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতিদিন প্রায় ৪শ ব্যাগেজ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করে আসছিল।
আদায়কৃত এসব টাকা সপ্তাহ শেষে বেনাপোলে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত সদস্যদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়ে আসছিল এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রতিদিন ভারত থেকে আসা ব্যাগেজ ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে আসছিল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাস্টমস ও বিজিবি কড়াকড়ি আরোপ করায় এসব ব্যাগেজ ব্যবসায়ীরা এখন খুলনা-কলকাতা বন্ধন ট্রেনে নিরাপদ ভেবে যাতয়াত শুরু করেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বেনাপোল রেল স্টেশন দিয়ে খুলনা-কলকাতা বন্ধন ট্রেনের যাত্রীদের আমরা সেবা দিয়ে আসছি। যাতে এই বন্ধন ট্রেনকে ব্যবহার করে কোনো অসাধু চক্র ব্যাগেজ ব্যবসার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান, মুদ্রা পাচারের মতো কোনো অপরাধ করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে