সত্যজিত্ বিশ্বাস
এখন তো ঘরে ঘরে সিনেমা হল
প্রথম বন্ধু :জানিস, একে একে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :এটাই তো হবার কথা।
প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব?
দ্বিতীয় বন্ধু :আগে দেশে হাতে গোনা কয়েকজন নায়ক-নায়িকা ছিল। এখন ঘরে ঘরে নায়ক-নায়িকা। আগে কাহিনি ছিল কম, এখন ঘরে ঘরে কাহিনি। আগে বিনোদন ছিল কম, এখন ঘরে ঘরে বিনোদন। কে আর কষ্ট করে টিকিট কেটে সিনেমা হল পর্যন্ত যাবে, তুই-ই বল?
লজ্জা করবে কেন?
মা :সারাদিন এই যে টো-টো করে ঘুরে বেড়াস, তোর লজ্জা করে না?
ছেলে :না, লজ্জা করবে কেন?
মা :কাকে দেখে এমন ঘোরাঘুরি শিখেছিস বল তো?
ছেলে :কেন, পৃথিবীকে দেখে!
খুশিতে, ঠেলায়, আনন্দে
অন্যান্য দিনের তুলনায় নেশা বেশি হয়ে যাওয়ায় দুই মাতাল একে অন্যকে ধরে বাড়ি ফিরছে।
প্রথম মাতাল :কীরে দোস্ত, আজ পৃথিবীটা এত জোরে জোরে ঘুরছে কেন?
দ্বিতীয় মাতাল :খুশিতে, ঠেলায়, আনন্দে!
প্রথম মাতাল :কেন আজকে কী?
দ্বিতীয় মাতাল :আজকে পৃথিবীর জন্মদিন তো, তাই।
জেনারেশন গ্যাপ
নাতি :বুঝলে দাদু, আমাদের জেনারেশনের কপালটাই খারাপ। রাস্তাঘাটে খালি জ্যাম আর জ্যাম।
দাদু :আমাদের জেনারেশনের কপাল কিন্তু আমরাই গড়ে নিয়েছিলাম।
নাতি :সেটা কেমন?
দাদু :আমরা তোদের মতো কপালের ওপর ভরসা করে পথে নামতাম না।
নাতি :তাহলে কীসের ওপর ভরসা রাখতে?
দাদু :রিকশা, গাড়িতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল না চেপে আমরা ভরসা রাখতাম আমাদের পায়ের ওপর।
কুইজ
বলুন দেখি হাজার টেনে তুলেও কোন তিন জিনিসের পতন ঠেকানো সম্ভব না?
১. হুক/ বেল্ট ছাড়া প্যান্ট ২. নাকের সর্দি ৩. শেয়ার মার্কেট।
অ-সাধারণ জ্ঞান
মামা :আচ্ছা বল তো, চীনের দুঃখ যদি হোয়াং হো নদী হয়, বাংলাদেশের দুঃখ কী?
ভাগ্নে :কেন, শেয়ার মার্কেট।
চেরাগের দৈত্য
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল লিমন। হঠাত্ কী একটা পায়ে লেগে ধাতব শব্দ হলো। বস্তুটা হাতে নিয়ে সে দেখল আলাদীনের চেরাগ। জোরে একটা ঘষা দিতেই বের হয়ে এলো চেরাগের দৈত্য।
দৈত্য :হাঃ হাঃ হাঃ! হুকুম করুন মালিক। যা চাইবেন তাই পাবেন। তবে ভালো করে চিন্তা করে চাইবেন। কারণ আমি মাত্র একবারই হুকুম তামিল করব।
লিমন :কিন্তু যা চাইব, তাই যদি না দিতে পার?
দৈত্য :হাঃ হাঃ হাঃ! হাসালেন মালিক। এমন কখনো হয়নি, হতেও পারে না।
লিমন :যদি হয়?
দৈত্য :যদি না পারি, তবে কথা দিচ্ছি যতদিন পর্যন্ত না পারব, ততদিন পর্যন্ত আপনার গোলাম হয়ে সব কাজ করে দেব।
লিমন :ঠিক আছে, তাহলে শেয়ার মার্কেটটা চাঙা করে দাও।
দৈত্য :মালিক, কাপড় ধোঁয়া, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, বাজার করা ছাড়া আর কী কী করতে হবে?
নতুন খনিজ সম্পদের খবরাখবর
আমরা জানি, বাংলাদেশে রয়েছে খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। তবু যে সব খনিজ সম্পদের প্রাপ্যতা ও অবস্থান এখনো অবহেলিত, পাঠ্যবইয়েও যেগুলোর নাম যোগ করা হয়নি—
প্রশ্ন :বাংলাদেশে সোনার খনি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর :শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে।
প্রশ্ন :বাংলাদেশের ইয়াবা খনি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর :টেকনাফে।
প্রশ্ন :বাংলাদেশের অজস্র খনি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর :শেরপুরের পাহাড়ি টিলার গহীন অরণ্যে মূল খনি হলেও আরো বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এর সন্ধান পাওয়া যায়।
প্রশ্ন :বাংলাদেশের চোলাই মদের খনি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর :সবচেয়ে বড় খনি এখন পর্যন্ত বান্দরবানের লামায় হলেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, নাটোরের বড়াই গ্রামেও বড় বড় খনির সন্ধান পাওয়া গেছে।
মিসফায়ার
মেয়ে :আচ্ছা বাবা, তোমার মানিব্যাগ থেকে না বলে টাকা নিলে তুমি কী করবে?
বাবা :থাপ্পড় মেরে গাল লাল করে দেব।
মেয়ে :মা... মা, বাবা তোমাকে থাপ্পড় মেরে গাল লাল করে দেবে বলছে।
পরীক্ষা সমাচার
পরীক্ষার হলে ছাত্র :স্যার প্রশ্ন তো খুব কঠিন হয়েছে। একটা প্রশ্নের উত্তর বলে দেবেন?
শিক্ষক :না, বলব না।
ছাত্র :জানলে তো বলবেন?
শিক্ষক :কী বলতে চাও তুমি? শোনো ছেলে, আমার ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে প্রশ্ন কখনো সহজ হয়েছে, এমন কথা কোনো ছাত্রকে বলতে শুনিনি।
ছাত্র :আমার ১২ বছরের শিক্ষাজীবনেও পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর জানে, এমন কথা কোনো শিক্ষককে বলতে শুনিনি।
ভালোবাসা মানে পেছন পেছন ঘোরাঘুরি
প্রথম বন্ধু :ভালোবাসা কী, জানতে হলে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখ।
দ্বিতীয় বন্ধু :কী দেখব?
প্রথম বন্ধু :কোনোদিন কাছে আসতে পারবে না জেনেও যুগের পর যুগ ক্লান্তিহীনভাবে কেমন সূর্যের পেছন পেছনে ঘুরছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :আহারে, পৃথিবীর অবস্থা দেখছি ঠিক তোর মতো।
প্রথম বন্ধু :তার মানে?
দ্বিতীয় বন্ধু :না মানে সুমির পেছনে কতদিন ধরে ঘুরঘুর করছিস...
আশায়, আশায়
প্রথম বন্ধু :আচ্ছা দোস্ত, পৃথিবী বোকার মতো সূর্যের চারপাশে ঘুরঘুর করে কোন আশায়, বল তো?
দ্বিতীয় বন্ধু :তুই যে আশায় লিজার পেছন পেছন ঘুরঘুর করিস।
দোষ কী শুধু আমার?
মা :সারাদিন এই যে টো-টো করে ঘুরে বেড়াস, তোর লজ্জা করে না?
ছেলে :পৃথিবীও তো সারাদিন ঘুরে বেড়ায়, তার বেলা?
তীব্র প্রতিবাদ
স্বামী :মানুষ আর মানুষ নেই, জানো?
স্ত্রী :কেন, কী হয়েছে?
স্বামী :আজ ট্রাফিক সিগন্যালে বাস, প্রাইভেট, মোটর সাইকেলের চালকেরা সবাই মিলে এত জোরে জোরে হর্ন বাজাতে লাগল যে কানের পর্দা ছিঁড়ে যাবার জোগাড় হয়েছিল।
স্ত্রী :তা, তুমি তখন কী করলে?
স্বামী :একজন সচেতন নাগরিকের যা করা উচিত, তাই করলাম। তীব্র প্রতিবাদ করলাম।
স্ত্রী :কিভাবে প্রতিবাদ করলে?
স্বামী :কেন, টানা দুই মিনিট আমার মোটর সাইকেলের হর্ন বাজিয়ে।
সহ্যশক্তি
‘সহ্যশক্তির ওপর কার কতটা দখল’ তা পরীক্ষা করতে গিয়ে একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হলভর্তি শ্রোতাদের উদ্দেশে বললেন, আপনাদের মধ্যে কার কত সহ্যশক্তি আছে? যার সবচেয়ে বেশি সহ্যশক্তি আছে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। তা শুনে মঞ্চে একজন একজন করে এগিয়ে এলেন সহ্যশক্তির পরীক্ষা দিতে।
প্রথম ব্যক্তি :গত এক বছর যাবত দাঁত ব্যথায় কোঁকাচ্ছি, তবু ডাক্তারের কাছে যাই না। আমার চেয়ে সহ্যশক্তি আর কার আছে?
দ্বিতীয় ব্যক্তি :মশার কামড়ে ঘুমাতে পারি না, তবু গত দুই বছর যাবত মশারি কিনি না। আমার সহ্যশক্তি কি কম?
তৃতীয় ব্যক্তি :গত তিন বছর যাবত প্রতিদিন লোকাল বাসে সদরঘাট থেকে মিরপুর অফিস করতে যাই। এমন সহ্যশক্তি আছে আর কারো?
এমন সময় পাকা চুলের এক মুরব্বি এগিয়ে এলেন। উপস্থিত তিন যুবকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আমি পঁচিশ বছর যাবত বিবাহিত জীবন যাপন করছি। আছে, ধারে কাছে কেউ?
পুরো হল নিস্তব্ধ।
সহজ লিস্ট
প্রথম বন্ধু :ঢাকা শহরে কতগুলো অবৈধ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে, তার একটা লিস্ট করা খুবই জরুরি।
দ্বিতীয় বন্ধু :কী যে বলিস, তাহলে তো সারা বছরেও এই লিস্টের কাজ শেষ হবে না।
প্রথম বন্ধু :তাহলে উপায়?
দ্বিতীয় বন্ধু :খুব সহজ। তারচেয়ে বরং ঢাকা শহরে কতগুলো বৈধ ও ঝুঁকিহীন ভবন আছে, সেটার লিস্ট করে ফেললেই তো হয়।
সুখ তুমি কী
প্রথম বৃদ্ধ :সুখ জিনিসটা কী রে?
দ্বিতীয় বৃদ্ধ :কী জানি কী! সেই ছোট থাকতে শুধু নামই শুনছি। এহন বুড়া হইছি, নিজেও সুখ পাইলাম না, কাউরে পাইতেও দেখলাম না।
বৃষ্টি কুইজ
* বলেন তো দেখি, বাংলাদেশে এখন কোথায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?
—কী বললেন? শ্রীমঙ্গলে? হয় নাই। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় ফেসবুকে।
* আচ্ছা এবার বলেন তো দেখি, বৃষ্টিপাতে এখন কোথায় সবচেয়ে বেশি জল জমে?
—কী বললেন? ফেসবুকে? হয় নাই। এখন সবচেয়ে বেশি জল জমে মিরপুরে।
* বলেন তো দেখি, যে পুরুষ ঝুম বৃষ্টিতে খাটের দু পাশ দিয়েই উঠতে পারে, তাকে কী বলে?
—কী বললেন? রোমান্টিক পুরুষ? হয় নাই। তাকে ব্যাচেলর বলে।
* আচ্ছা এবার বলেন তো দেখি ভাই, যে পুরুষ ঝুম বৃষ্টিতে বাসায় রান্না করে, তাকে কী বলে?
—কী বললেন? ব্যাচেলার বলে?! হয় নাই। তাকে রোমান্টিক পুরুষ বলে। হিন্দি সিনেমা, সিরিয়াল কিচুই দেখেন না মনে হয়?
বাজি
প্রথম বন্ধু :কেটে গেলেও এক ফোঁটা রক্ত বের হয় না, এমন কাউকে দেখাতে পারবি?
দ্বিতীয় বন্ধু :ধুর, এমন কেউ আছে নাকি?
প্রথম বন্ধু :তাহলে আয়, একশ টাকার বাজি ধরি।
দ্বিতীয় বন্ধু :ঠিক আছে, আয় বাজি। দেখা তো দেখি এমন কাউকে।
প্রথম বন্ধু :এই যে আমার সামনে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :তার মানে?
প্রথম বন্ধু :কেন? তুই।
দ্বিতীয় বন্ধু :আমার কোথায় কাটল?
প্রথম বন্ধু :কেন? তোর জীবন কি কেটে যাচ্ছে না? এখন দে, একশ টাকা দে।
কে শোনে, ভালো কথা?
আমি সবসময় মানুষের উপকারই করতে চাই। ফেসবুকে সবাইকে কত বোঝাই, ঢাকা শহরের পথে এমনেই জ্যাম। সমস্যা নিয়ে পথে নামতে নেই।
কে শোনে কার কথা? সুযোগ পেলে সবাই বান্ধবী নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে যায়।
সবাইকে এত বোঝাই, বিয়ে মানেই খরচ, বিয়ে মানেই বোঝা।
কীসের কী? প্রতি মাসে ধার করে চলা যুবক, বেকার এমন কী ভিক্ষুকটা পর্যন্ত, কাউকে কী ঠেকিয়ে রাখা গেছে?
আচ্ছা ঠিক আছে, বিয়ে করেছ ভালো কথা। দুজনে মিলেমিশে থাকো। কথা কাটাকাটির কী দরকার?
কে শোনে কার কথা? কথা কাটাকাটি, ঝাটাঝাটি, ফাটাফাটি, তারপর হাঁটাহাঁটি। হলো কিছু?
সবাইকে এত বোঝাই, কখনো সমস্যা নিয়ে ঘুমাতে যেতে নেই।
কিন্তু কে শোনে, ভালো কথা? খোঁজ নিয়ে দেখুন, সবাই বউ নিয়েই ঘুমাতে যায়।