নিম্নচাপ ও সামুদ্রিক জোয়ারে কক্সবাজারের উপকূল প্লাবিত

টানা কয়েকদিন ধরে নিম্নচাপ, তার ওপর ভরা অমাবস্যার তিথিতে সামুদ্রিক জোয়ারে কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় নিচু এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস। সেই সঙ্গে চলছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতও। বৈরী আবহাওয়া ও নিম্নচাপের ফলে সাগরে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় আট থেকে দশ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্রতটে।

আগের কয়েক দিনের চেয়ে এবার জোয়ারের পানি বেশি। পানির তোড়ে কক্সবাজার কলাতলী, ডায়াবেটিক পয়েন্ট হুমকির মুখে পড়েছে। সাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকায় বয়ে যাচ্ছে ঝড়ো হাওয়া। আবহাওয়া বিভাগ ইতোমধ্যে উপকূলে ‘তিন নম্বর সতর্ক সংকেত’ প্রচার করেছে। গত শনিবার থেকে উপকূলে শুরু হয়েছে ঝড়ো হাওয়া। এ কারণে সাগরের জোয়ারের পানি ফুঁসে উঠেছে। ফলে উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলের বিধ্বস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া সামুদ্রিক জোয়ারের পানি দুপুর নাগাদ পূর্ণ জোয়ারে পরিণত হয়। বাতাসের ফলে মঙ্গলবার দুপুরে জোয়ারের পানিও বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে।

অস্বাভাবিক জলোচ্ছাস বা সামুদ্রিক জোয়ারে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ির ঝাউবীথি প্লাাবিত হয়ে যায়। জোয়ারের পানিতে একাকার হয়ে যায় সৈকতের কলাতলীর হ্যাচারী জোন ও ডায়াবেটিক পয়েন্ট এলাকা। সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়েও ডায়াবেটিক পয়েন্টের ঝাউবীথির বেশ কিছুসংখ্যক গাছ সাগরে ভেসে গেছে। জোয়ারের অব্যাহত ঢেউয়ে কলাতলীর হ্যাচারী পয়েন্ট ও ডায়াবেটিক পয়েন্টটি তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অপরদিকে সামুদ্রিক জোয়ারে জেলার মহেশখালীর ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি এবং কুতুবদিয়া দ্বীপেরও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়া,কাজির পাড়া, তেলিপাড়া, বায়ুবিদ্যুৎ, কুমিরারছড়া জেলেপাড়া, বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরালিয়া, লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাটা, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফয়জানিরবাপের পাড়া, চরধুরুং, পশ্চিমচরধুরুং, কাইছারপাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের আলী ফকির ডেইল, বাতিঘর পাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া, উত্তর বড়ঘোপ এলাকাসহ প্রায় ১৪ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া পুরো মাতারবাড়ি এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। দিবারাত্রি দুই দফার জোয়ারের পানি ফুঁসে উঠে এসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তবলর চর, মুরালিয়া এবং কুমিরাছড়া দিয়েও সাগরের জোয়ারের পানি ফুঁসে ওঠে প্লাবিত করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইল এর চেয়ারম্যান নুরুচ্ছফা বিকম জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের শত শত একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট পাউবোর কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান।
IMG0
মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম জানান, ধলঘাটার উত্তর সুতুরিয়া, বনজামিরা, সরইতলা ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে।জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে একমাত্র যোগাযোগের রান্তাটি অচল হয়ে পড়েছে। ওই সড়কের উপর দিকে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হওয়া বিভিন্ন স্থানে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে মাতারবাড়ির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও পুরো মাতারবাড়িতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যেতে নৌকায়ই একমাত্র বাহন হয়ে দাড়িয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু