জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ফিজিওথেরাপি ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও পেশা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোনো কাউন্সিল না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী অপচিকিত্সার শিকার হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিল বাস্তবায়ন দাবিতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ফিজিওথেরাপি ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের মুখপাত্র ডাঃ দলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে দেশের প্রায় ২ কোটি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে ফিজিওথেরাপি চিকিত্সার মাধ্যমে কর্মক্ষম করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্যে প্রয়োজন শুধু ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিলের উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন না থাকার ফলে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ইচ্ছামতো ফিজিওথেরাপি কোর্স পরিচালনা করছে। আরেকদিকে সারাদেশে যে কেউ ফিজিওথেরাপিস্ট সেজে চিকিত্সা প্রদান করছেন। এমনকি সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফিজিওথেরাপির নামে চলছে ‘হিটথেরাপি’। আমাদের অবিরাম দাবির প্রেক্ষিতে সরকার প্রথমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল গঠনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা চিকিত্সকদের একটি অংশের বাধার কারণে আর অগ্রসর হতে পারেনি। পরবর্তীতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় রিহেব কাউন্সিল নামক আইন তৈরি করার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের প্রধান দাবি সরকার কর্তৃক গৃহিত উদ্যোগ জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপির দ্রুত বাস্তবায়ন। আগামী ২২ জুলাই থেকে মানববন্ধন, ঘেরাও, অবস্থান ধর্মঘটের মতো রাজপথের কর্মসূচি থাকবে।
সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এম এন আলম, ডা. নজরুল ইসলাম, ডা. ফরিদ উদ্দিন, ডা. খাইরুল ইসলাম, ডা. আরিফ জুবায়ের, ডা. মাকসুদুল আলম, ডা. মহসিন কবির লিমন, ডা. মাশুক রায়হান, ডা. জাকারিয়া ফারুখ, ডা. সাইফুল ইসলাম, জাকারিয়া তমাল প্রমুখ।