২০১৩ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তাকে যেমন বিশ্ববাসী ভুলতে পারেনি, তেমনি পারেনি তার আদর্শকে। তিনি বর্ণবাদবিরোধীতার যে বীজ বপন করেছেন, সেই বীজ আফ্রিকা মহাদেশ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বেই বড় হচ্ছে। তার পথে হাঁটছে মানুষ। গতকাল ১৮ জুলাই জন্মশতবার্ষিকীতে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন প্রথম মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নেলসন ম্যান্ডেলাও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। খবর সিএনএন ও ডেইলি নেশনের
কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বেই ম্যান্ডেলাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হয়। জাতিসংঘও আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেলা দিবস পালন করে। বিভিন্ন দেশে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলার আদর্শকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করা হয়। ওবামা তার বক্তব্যে আফ্রিকা মহাদেশের সামাজিক আন্দোলন এবং সরকারে আরো নারীদের যুক্ত হওয়ার আহবান জানান। গতকাল ৪৪তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা জোহান্সবার্গের টাউন হলে তরুণ নেতাদের সামনে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ভাইয়েরা, আমি তোমাদের মতোই প্রতিদিন পত্রিকা পড়ি। আমি ভাবি আমরা কী ভুল করছি, তোমরা কী ভুল করছো? আমার মনে হয়, আমরা হিংস্র হয়ে যাচ্ছি। তিনি তরুণদের রাজনীতিতে আসার আহবান জানান, তবে ভান না করে দুর্নীতিমুক্ত থাকার আহবান জানান।
শান্তি ও স্বাধীনতার পথ দেখানো ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তার নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহলা ডালিভুঙ্গা মান্ডেলা। স্কুলের এক শিক্ষক তার ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষের কাছে তিনি ‘মাদিবা’ নামে পরিচিত। ম্যান্ডেলার নব্বই বছরের জীবনকালের দীর্ঘ ২৭ বছর কেটেছে কুখ্যাত রবেন দ্বীপের কারাগারে। অথচ কারাগার থেকে বেরিয়ে সেই ম্যান্ডেলা শ্বেতাঙ্গদের ক্ষমা করে দেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে তিনি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার দিকে নজর দেন। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন কিংবদন্তিদের কিংবদন্তি ম্যান্ডেলা।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ