এইচএসসিতে আরও পেছালো যশোর বোর্ড

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত বছরের চেয়ে আরও পিছিয়েছে যশোর বোর্ড। দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৩ শতাংশ। এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৭০ দশমিক ০২ ভাগ। আর ২০১৬ সালে ৮৩ দশমিক ৪২ ভাগ পাসের হার নিয়ে দেশসেরা হয়েছিল যশোর বোর্ড।
 
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে এই বোর্ডে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৯ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৪৪৭ জন। আর ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৮৬। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
 
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র এ ফলাফল সংক্রান্ত এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ হওয়ায় তা সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। 
 
যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, এবছর যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৬ হাজার ২৫৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩১ হাজার ৬৫২ জন এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৬০৬ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৪০। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৯ জন। বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৭ জন।
IMG0
গত বছর এই বোর্ড থেকে ৯৫ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ৬৭ হাজার ২ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩৩ হাজার ৮০৮ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৯৪ জন। পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ০২। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৪৪৭ জন। বহিষ্কৃত হয়েছিল ৫৬ জন।
 
২০১৬ সালে এই বোর্ড থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৯ জন। পাশের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ৫৮৬ জন। পরীক্ষায় বহিষ্কৃত হয়েছিল ৮১ হন।
 
সেই হিসেবে গত দুই বছরে যশোর বোর্ডে পাশের হার কমেছে ২৩ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৯৭।
 
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ৬১৮ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৯১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৫৮৪ জন। মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৬৮ হাজার ৮৯৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৫ হাজার ৭২৮ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৮৬ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২১ হাজার ৪৯০ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ১৪ হাজার ৯১২ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৩৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৭ জন ছাত্র ছাত্রী। সারাদেশের গড় ফলাফলের তুলনায় যশোর বোর্ডের ফলাফলও নিম্নমুখী। তবে ২০১৬ সালে দেশসেরা অবস্থানে ছিল এই বোর্ড।
IMG1
এবারের ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় এবছর কোনো ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি। সব মহলের সহযোগিতায় প্রশ্ন ফাঁসের অপতৎপরতা রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এজন্যও পাসের হার কিছুটা কমেছে। তবে ভালো শিক্ষার্থীরা ফলাফল ভালো করেছে। তার প্রমাণ জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে মাত্র ৩শ’র মতো।
 
তিনি আরও বলেন, আর দেশের প্রায় সব বোর্ডেই এবার ইংরেজির ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে। যশোর বোর্ডে এবার ইংরেজিতেই ৩৫ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এছাড়া মানবিকেও পাসের হার কমেছে। এ জন্য এর প্রভাব সার্বিক ফলাফলে পড়েছে।
 
ইত্তেফাক/কেআই