ধনু নদীতে শুরু হয়েছে প্রবল স্রোত ও আফাল (বাতাসের কারণে উত্তাল ঢেউ)। এ কারণে গত ১০ জুলাই থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নে চলছে ভয়াবহ ভাঙন।
গত ১০দিনে ওই ইউনিয়নের ভোলা পাড়া, দালান ভাঙা, বড়হাটি এবং পাতারকান্দি গ্রামের দেড় শতাধিক ঘর ধনু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
ইউনিয়নের পাতারকান্দি গ্রামের সুনামদ্দিন মাস্টার, ভোলা হাটি পাড়ার বাসিন্দা মানিক মিয়া, মাজু মিয়া বলেন, চারটি গ্রামে কয়েকদিন আগেও ছিল বসতি। এখন সেখানে থইথই পানি। গত ১০দিনে দেড় শতাধিক ঘর চলে গেছে নদীগর্ভে। বাড়ছে ঘরবাড়িহারা নিঃস্ব মানুষের সংখ্যা। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্ষায় একদিকে কোনো কাজ নেই অন্যদিকে ভাঙনে ভিটে হারিয়ে আমরা দুর্ভোগ ও অসহায় হয়ে পড়েছি।
IMG0
শুক্রবার সিংপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামবাসী বাঁশ এবং কচুরিপানা দিয়ে ভাঙন রোধে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভিটেহারা অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।
সিংপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকর্মী ইমাম হোসেন বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোলা পাড়া গ্রামের পরিবারের সংখ্যা ছিল ৫১টি। গত ১০দিনের নদী ভাঙনে গ্রামটি একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে যে কোনো গ্রাম ছিল তার কোনো চিহ্ন নেই।
দালান ভাঙা গ্রামে পরিবার ছিল ৪৩টি। ১০দিনের ভাঙনে একটি পরিবারও ওই গ্রামে নাই। বড়হাটি গ্রামের প্রায় ১৫টি ঘর এবং পাতারকান্দি গ্রামের প্রায় ১২টি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিংপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌধুরী পাড়ার মসজিদটি ভাঙন কবলে। যেকোন সময় নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
IMG1
সিংপুর ইউপি পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জানান, এ এলাকার লোকজনের বসবাস কচুরিপানার মতোই। যেকোন সময় প্রবল স্রোত ও প্রচণ্ড ঢেউ তাদের বাসস্থান ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মানিক মিয়া একই মতামত দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াহ ইয়া খান বলেন, বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে জানাব এবং আমি সরেজমিনে সিংপুর যাব। ফিরে এসে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রাণালয়ে সাহায্য চেয়ে লিখিত আবেদন করব।
ইত্তেফাক/আরকেজি