ষড়যন্ত্রের চিন্তা বাদ দিয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত হোন : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ হচ্ছে অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়া ও অধিকার আদায়ে কথা বলার উপযুক্ত স্থান। নির্বাচনের মধ্যদিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘিষ্ঠ দল হিসাবে আসন গ্রহণ করার পর সংসদে এ সব কথা বলার সুযোগ পাওয়া যাবে। বাইরে থেকে অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে শত উচ্চকিত হলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। তাই যারা নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য সংঘাত বা ষড়যন্ত্রের চিন্তা করেন, তাদেরকে এখনই এই পথ পরিহার করে ভোটের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

গতকাল শুক্রবার পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেতু ও সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্র। এ দেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। কোন দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা ক্ষমতায় আরোহনের জন্য নির্বাচন হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায়। তাই যেকোন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় যেতে হলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনে যেতেই হবে। এই নির্বাচনী মাঠ অসমতল বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নয় এই অজুহাতে নির্বাচনে না যাওয়া বা নির্বাচন বর্জন করা কোন জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান লোকের কাজ নয়। বাংলাদেশের খেলার মাঠ বেশিরভাগই গাঁও-গ্রামের ধানক্ষেত। প্রকৃতিগতভাবে ধানক্ষেত অসমতল বা এবড়ো-থেবড়ো হওয়ায় খেলাধুলার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা মাঠকে খেলার উপযোগী বা সমতল করে। স্টেডিয়ামের মত খেলার উপযোগী মাঠ শুধু শহরেই আছে। এ দেশে অসম মাঠেই খেলোয়াড়রা অভ্যস্ত বলে অতীতে বিভিন্ন সময় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তা নিশ্চিত হয়েছে। এরকম মাঠেই এরশাদ সাহেব খেলেছেন, বিএনপি খেলেছে, আওয়ামী লীগ খেলেছে, বিএনপি-জামায়াত খেলেছে, আবার ১৪ দল খেলেছে। কিন্তু এখন ২০ দল অসমতার কথা বলে এ নির্বাচনী খেলার মাঠ থেকে সরে যেতে চায়।  

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকলে সমান সুবিধা পেতে চাইলে নির্বাচন বর্জন করার মানসিকতা পরিত্যাগ করে যাতে সংসদে আসন গ্রহণ করতে সক্ষম হন তার জন্য প্রচেষ্টা নিতে হবে। আগামী অক্টোবর মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং একটি ছোট আকারের সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে ১৪ দলই বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসবে। যারা নির্বাচন বানচাল করার ব্যর্থ চেষ্টা করবে তাদের নির্বাচন পরবর্তী পরিণতি নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ ১৪ দলের বিজয় ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ৩৪ বছর ধরে আমি সব সময় বলে এসেছি, যে যার রাজনৈতিক দল করবেন কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে। ঝগড়া-ঝাটি, মারপিট করবেন না। এলাকার উন্নয়ন কাজ প্রশ্নে আমার ব্যক্তিগত দুঃখ ও হতাশার জায়গা হলো, অনেক কষ্ট-ক্লেশ করে সময় ব্যয় করে এলাকার জন্য কাজ আনা হয় কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শুরু ও শেষ হয় না। এ ক্ষেত্রে কিছু ঠিকাদার সময়ের অপচয় করেন বলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বিঘ্নিত হয়। কাজের ক্ষেত্রে ঐক্য বজায় রাখতে হবে, অতীতের ধারা অব্যাহত রেখে নতুন  প্রজন্ম নেতৃত্ব নেবে। ভুল-ভ্রান্তি শুধরিয়ে সুদিন নিশ্চিত করবে। মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনার সরকারের সময় অর্থের অভাব নাই, কাজ শেষ করুন, দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। তিনি আরও বলেন, উপজেলা ব্যবস্থা শুরু করার সময় পরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ করা গেলে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা যেত। যেমন শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা মাফিক করা হয় বলে নানা সেবা নিশ্চিত করা যায়। সরকারের বরাদ্দ সদ্ব্যবহার করা গেলে আরও উন্নয়ন কাজ সম্ভব হতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যদি সঠিকভাবে কাজ করতেন তাহলে উন্নয়ন আরও বেগবান হতো।

বিকালে জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। এখানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল হক, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারেক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিরন চন্দ্র বসুসহ শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় মন্ত্রী পূর্ব ধাওয়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু ও ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান চানও বক্তব্য রাখেন। রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী এবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আরেক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মন্ত্রী ধাওয়া ইউনিয়নের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ ধাওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমি ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর ত্রাণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ধাওয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কাজিবাড়ীর সামনে খালের উপর সেতু নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। রাতে ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু অবকাঠামো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকৃত প্রকল্পগুলো হচ্ছে: কেশবলাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, আতরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ ও ইকড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ। এছাড়া মন্ত্রী ত্রাণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আকনবাড়ীর সামনের খালের উপর সেতু নির্মাণ ও ৮নং ওয়ার্ডের শরীফের ডাঙ্গা খালের উপর সেতু নির্মাণ এবং এলজিইডি’র ব্যবস্থাপনায় ইকড়ি ইউপি অফিস হতে ভগিরথপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

রাতে একই ইউনিয়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বোথলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব কর্মসূচিতে ইকড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, সাবেক চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কেশব লাল রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসব কর্মসূচিতে মন্ত্রী পৃথকভাবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

কর্মসূচিগুলোতে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন এলজিইডি’র পিরোজপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত রঞ্জন রায়, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভান্ডারিয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, পিরোজপুর জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য রোকেয়া বেগম,  উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিটাবাড়িয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ।

ইত্তেফাক/নূহু