স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনে নাটোরের নলডাঙ্গায় মলেকা খাতুন নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শাখাড়িপাড়া গ্রামে শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে গৃহবধূর ঝগড়ার জের ধরে বেধদম নির্যাতন ও মারপিটে ওই গৃহবধূ নিহত হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করছিলেন তারা। পরে শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে ওই গ্রামের চাঁনমোহম্মাদ আলীর ছেলে স্বামী গোলাম রাব্বানি (৩৫) শাশুড়ি শামিউন (৫০) ও ননদ পারুল খাতুনকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতন ও মারপিটে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন তারা। শনিবার তাদের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি রের্কড করার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত মলেকা খাতুন (২৫) শাখাড়িপাড়া গ্রামের চাঁনমোহাম্মাদ আলীর ছেলে গোলাম রাব্বানী স্ত্রী ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটুসরপুর ইউনিয়নের মঞ্জিল প্রামানিকের মেয়ে।
নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী এবং নিহতের স্বজনরা জানান, গত তিন বছর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটুসরপুর ইউনিয়নের মঞ্জিল প্রামানিকের মেয়ে মলেকা খাতুনের সঙ্গে নলডাঙ্গা উপজেলার শাখাড়িপাড়া গ্রামের চাঁনমোহাম্মাদ আলীর ছেলে গোলাম রাব্বানীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী গোলাম রাব্বানী চাকরির সুবাদে ময়মনসিংহে থাকতে হয়। এ সুযোগে প্রতিনিয়ত শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে গৃহবধূ মলেকা খাতুনের সংসারে খুটিনাটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জের গত বৃহস্পতিবার স্বামী গোলাম রাব্বানী ছুটি নিয়ে বাড়ি এলে শাশুড়ি ননদ ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দেন। মা ও বোনের অভিযোগ শুনে গোলাম রাব্বানী স্ত্রী মলেকা খাতুনকে মারধর শুরু করেন। বেদম মারপিট ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে গৃহবধূ মারা যান।
তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গৃহবধূর গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করেন। পরে শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের ছোট ভাই আলী হাসান বলেন, আমার বোন মলেকাকে এমনভাবে পেটানো হয়েছে যে, কান দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন খন্দকার জানান, নিহতের বাবা মঞ্জিল প্রামানিক বাদী হয়ে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। শনিবার তাদের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি রের্কড করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে