রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য। কেননা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীল সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকা আজও মুখ্য। ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, মাছ ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ অব্যাহত ভাবে এগিয়ে চলছে। এটি সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে। বিশেষ করে কৃষি ভর্তুকি, কৃষকদের অনুকলে সার, সেচ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাবদ কৃষি সহায়তা প্রদান। পাশাপাশি কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৫৭ বছর পূর্তি উদ্যাপন এবং হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ভিত্তি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ রবিবার দুপুর আড়াই টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাকৃবি ও বাকৃবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার গৃহীত কৃষি নীতিমালা সুষ্ঠু বাস্তবায়নে দক্ষ কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানী তৈরিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনগুলোতে আরো বেশি যত্নবান হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই “আমাদের গ্রামের দিকে যেতে হবে। কৃষি বিপ্লবের স্বার্থে আমাদের ইকনমিকে গণমূখী করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমিরেটাস অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ মো. আবদুর রাজ্জাক এম.পি, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এম.পি. ও নির্বাহী সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা।
পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি।
বিকাল ৫টায় মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাকৃবি অ্যালামনাই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অ্যালামনাইগণের স্মৃতিচারণ ও পর বিশেষ অবদানের জন্য ১১ জন অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে রাত ৮টার দিকে অ্যালামনাইদের জন্য এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইত্তেফাক/কেকে