জলঢাকায় দারিদ্র্য কেড়ে নিচ্ছে এক মেধাবীর স্বপ্ন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় গোলমুন্ডা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছে হালিমা। বর্তমানে অর্থাভাবে কলেজে যেতে পারছেন না সে। দারিদ্র্য কেড়ে নিচ্ছে তার স্বপ্ন! বন্ধ হতে চলেছে শিক্ষা জীবন।

হালিমার বাবার নাম মৃত হামিদুর রহমান ও মা অফিজা বেগম। হালিমা জানায়, তাদের দরিদ্র পরিবার। তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে দুই বছর আগে মারা যান। হালিমার মা, মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান।

হালিমার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার মা তাকে আর স্কুলে পড়াবেন না বলে জানিয়ে দেয়। মায়ের ইচ্ছে ছিলো তার মতো হালিমাও মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করুক। অভাবের সংসারে তাতে কিছু বাড়তি উপার্জন হবে।

সে সময় হালিমা মায়ের কথা না শুনে লেখাপড়ার ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের পাড়ায় মানুষের বাড়ি গিয়ে তাদের স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানো শুরু করে। তাদের পড়িয়ে উপার্জিত টাকায় সে এবারের এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে।

হালিমা বলে, এতদিন নিজের চেষ্টায় পড়লাম। এখন এইচএসসিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছি। দিনাজপুর বোর্ড কর্তৃপক্ষ আমাকে রংপুর বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করেছে। কিন্তু সেখানে পড়ার মতো টাকা আমি কোথায় পাব?

হালিমা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে, আমি বড় স্বপ্ন দেখেছিলাম যে, লেখাপড়া করে ডাক্তার হবো, দেশের মানুষের সেবা করবো। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভাবে আমার স্বপ্ন-স্বপ্নই থেকে গেলো! দারিদ্র্য মনে হয় আমাকে আর দেখতে দেবে না কলেজের মুখ।

গোলমুন্ডা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, হালিমা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সে আমার ছাত্রী। তার মেধা খুব ভালো। আমার বিশ্বাস সমাজে অনেক দয়ালু ও বিত্তবান মানুষ আছে। যারা এ রকম অসহায় মেধাবীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াবে। হালিমার পড়াশুনা বন্ধ হবে না। সে পড়ালেখা করে কেবল নিজের ভাগ্যোন্নয়ন নয়, দেশের কল্যাণে অবদান রাখবে।

ইত্তেফাক/নূহু