ভারতের রাজস্থানে আলোয়ারে গত শনিবার গরু পাচারকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গণপিটুনিতে তাৎক্ষনিকভাবে মৃত্যু হয়নি ২৮ বছর বয়সী রাকবর খানের। তাকে আহত অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে রেখে দেওয়া হয়েছিল পুলিশি হেফাজতে। পুলিশ আহত রাকবরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে যে গরুগুলো নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেগুলোর থাকার ব্যবস্থা করেছিল। খবর এনডিটিভি’র।
খবরে বলা হয়, গণপিটুনির পর তিন ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে রাকবরকে রেখে দেওয়া হয়েছিল পুলিশের হেফাজতে। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রাকবর।
IMG0
আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশ গরুগুলিকে গোয়ালে পাঠানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে, হাসপাতাল থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত থানাটি পরিদর্শন করে। এমনকি চা খাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়ায়। কিন্তু রাকবরকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। আর যখন নিয়ে গেছে তখন সে ছিল মৃত।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, পুলিশ ওই আহত ব্যক্তিকে মারধোরও করছিল।
এদিকে, রবিবার এ বিষয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনের পর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব স্থানীয় থানা থেকে সরিয়ে তড়িঘড়ি এক পদস্থ কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তার নাম হেমন্ত প্রিয়দর্শী। প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা শুরু হতে এত দেরি হল কেন, তাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার প্রথম এফআইআর রিপোর্ট জানাচ্ছে, ঘটনাটি সম্বন্ধে পুলিশকে প্রথম অবগত করা হয় ফোন করে, রাত বারোটা একচল্লিশ নাগাদ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাত একটা পনেরো থেকে একটা কুড়ির মধ্যে। একজন ডানপন্থী দলের সমর্থক নওল কিশোর, যিনি পুলিশকে ফোন করে প্রথম ঘটনাটির খবর দেন, তিনিই এনডিটিভিকে এই কথা জানান।
IMG1
পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা নওল কিশোরের কথায়, গোটা শরীর কাদায় ঢাকা থাকার জন্য পুলিশ ওই আহত ব্যক্তিকে স্নান করায়। তারপরই ওই সেখান থেকে চলে যায় তারা।
তারা প্রথমে দাঁড়ায় নওল কিশোরের বাড়িতে। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া গরুগুলিকে একটি স্থানীয় গোয়ালে পাঠানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে।
নওল কিশোরের এক আত্মীয়া মায়া এনডিটিভিকে বলেন, গাড়ির ভিতরের অত্যন্ত গালিগালাজ করতে করতে আহত ব্যক্তিকে মারধর করছিল পুলিশ। তখনও ওই ব্যক্তি বেঁচে ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
সেখান থেকে তারা কিছুটা সতেজ হাওয়া উপভোগের জন্য বের হন। আহত রাকবর খান তখন নিজের শরীরে ব্যাথার কথা বলছিলেন। তবে পুলিশ সদস্যরা সেকথা কানে না নিয়ে কাছের এক দোকান থেকে চা খেতে যায়।
পরবর্তীতে তারা রাকবরকে নিয়ে নিকটবর্তী থানায় যায়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ভোর চারটার দিকে। সেখানে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেন।
ইত্তেফাক/ জেআর