নিকলীতে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে পাকা ধান থাকলেও কাটার শ্রমিক সংকটে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। নিরুপায় হয়ে বাড়তি টাকা দিয়েই শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটছেন। এদিকে ধানের দাম কম থাকায় শ্রমিকের পেছনে ওই বাড়তি ব্যয়ের জন্য আরো বেশি লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
নিকলী সদর ইউনিয়নের বানিয়াহাটি গ্রামের কৃষক শুক্কুর মাহমুদ বলেন, আমি পাঁচ একর জমিতে হাইব্রিড বোরো ধান লাগিয়েছি। প্রতি একরে ধান হয়েছে ৬০ মণ করে। মোট ধান পেয়েছি ৩শ মণ। ওই জমির ধান শনিবার ৭শ টাকা করে ৫০ জন শ্রমিক দিয়ে কাটিয়েছি। ৫০ জন শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ওই ধান ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করেছি ৪৫০ টাকা মণ দরে। ৩শ মণ ধানের দাম পেয়েছি এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা। পাঁচ একর জমি চাষ করে আমার লোকসান গুনতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের কৃষক আছির উদ্দিন বলেন, এ বছর তিনি প্রায় ছয় একর জমিতে ব্রি ২৯ জাতের ধানের চাষ করেছেন। শ্রমিক না পাওয়ায় এখনো একচিলতে জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না।
নগর গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ধানের ফলন ভালো। তবে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে কাটতে হচ্ছে। এই বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের আরো বেশি লোকসানে পড়তে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুণ অর রশিদ বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাওরে প্রায় ৩০% বোরো ধান কাটা হয়েছে। তবে শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় কৃষকরা চিন্তিত। সরকারিভাবে ক্রয় শুরু হলে ধানের দাম বাড়বে।