দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশের বর্তমানকে সোনালী অধ্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন। সোমবার দুপুরে বাঘা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বয়স্ক, অস্বচ্ছল, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুুঃস্থ মহিলাদের মাঝে স্বেচ্ছাধীন তহবিলের অনুদানের অর্থ ও বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বাঘা উপজেলা হলরুমে নির্বাহী কর্মকর্তা শাহির রেজার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় কাঁচা নেই। আমরা সারা দেশের ৫শ উপজেলায় পাঁচশত কলেজ সরকারি করেছি। যাতে করে গ্রামের সাধারণ ছেলে-মেয়েরা এলাকায় থেকে অনার্স কমপ্লিট (শেষ)করতে পারে। কারণ আমাদের সরকার এই সমাজকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, ও মাতৃত্বকালিন-সহ ৯ প্রকার ভাতা প্রদান করছি। সেইসঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছি নিরাপদ আবাসস্থল (বাড়ি) নির্মান প্রকল্প। এটি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে দেখভাল করছেন। এ প্রকল্পের আওতায় যাদের জমি আছে ঘর নেই তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত হবে। এদিক থেকে ইতিমধ্যে বাঘায় ৪শ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অপর দিকে যাদের জমি নেই তাদের জন্য গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শাহরিয়ার জাতীর পিতাকে স্মরণ করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ যেভাবে দেশকে উন্নয়নের দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা থেকে এই সময়টাকে সোনালী অধ্যায় বলতে হয়। আজ তার পিতা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগনের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ এ সরকার জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চায়।
মন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কোন ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে না। তিনি দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে ভাল নাগরিক হওয়ার আহবান জানান এবং মাদকের সঙ্গে কোনো আপোস নেই বলে উল্লেখ করেন। কেননা মাদক আমাদের যুব সমাজ তথা দেশটাকে ধবংস করে দিচ্ছে। এ কারনে মাদকের বিষয়ে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নিচ্ছি। যাতে করে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাংলাদেশকে নষ্ঠ করতে না পারে।
সবশেষে তিনি সকল অন্যায়ের উর্দ্ধে থেকে দুর্নীতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
সভামঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত (রাজশাহী) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত কুমার, উপ-পরিচালক রাশেদ কবির-সমাজ সেবা অধিদপ্তর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইমরুল কায়েস ও বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ রেজাউল হাসান-সহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সকালে মন্ত্রী উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকায় শ্মশান ঘাট ও বাউসা ইউনিয়নের চক বাউসা স্কুলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।
বাঘা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আয়োজিত সভায় মাননীয় মন্ত্রী ৫২টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মসজিদ ও মন্দিরে) ব্যাক্তি পর্যায়ে স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। একইসঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বয়স্ক, অস্বচ্ছল, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুুঃস্থ ১৫শ জন মানুষের হাতে বই তুলে দেন।
ইত্তেফাক/নূহু