ভান্ডারিয়ায় ব্রিজ ভাঙার দায়ে আটককৃত ট্রাক পুলিশ হেফাজতেই থাকছে

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার মাদারসী এলাকার বেইলি ব্রিজ ভাঙ্গার দায়ে আটককৃত দু'টি ট্রাক পুলিশের হেফাজতেই থাকছে। ওই ট্রাক দু'টি পরিবহন মালিকের জিম্মায় দেয়ার জন্য পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দেয়া আদেশ মঙ্গলবার স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। 
 
রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ। তিনি জানান, হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য দায়রা জজ আদালতের আদেশ স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেছে। 
 
ভান্ডারিয়ার মাদারসী এলাকার বেইলি ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ২০ টন। ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট রাতে পাথরবোঝাই ৬০ টন ওজনের দুটি ট্রাক একসঙ্গে সেতুটি পার হতে গেলে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন থাকায় ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে করে মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা উপজেলার সঙ্গে ১২টি পথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পিরোজপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা এসএম মনিরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ ট্রাক দু'টি আটক করে। পরে ট্রাক নিজের জিম্মায় নেওয়ার জন্য পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন গাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২০ নভেম্বর গাড়ি দু'টি মালিকের জিম্মায় দেওয়ার জন্য আদেশ দেয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পূর্বের আদেশ পরিবর্তন করে গাড়ি পুলিশ হেফাজতে রাখার আদেশ দেয় আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন গাড়ির মালিক। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে মালিকের জিম্মায় গাড়ি দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় জেলা ও দায়রা জজ আদালত। 
 
এই আদেশ বাতিল চেয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জেলা ও দায়রা জজের আদেশ মঙ্গলবার স্থগিত করে দেয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই