সিসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে সময় পার করছে সিলেট বিএনপি। পুলিশের ভয়ে নেতাকর্মীরা তটস্থ। ‘বিএনপির শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ’-এমন অভিযোগ করে দলটির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, কোনো ষড়যন্ত্র করে জনগণের হূদয় থেকে আমাকে দূরে ঠেলে দিতে পারবেন না। অতি উত্সাহী কিছু পুলিশ সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি ঘোলাটে করার পায়তারা করছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে তিনি যে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
জানা গেছে, গত ২১ জুলাই মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সম্মুখে নেতাকর্মীরা আরিফুল হকের দুজন নির্বাচনী কর্মীকে আটকের প্রতিবাদে অবস্থান নিলে সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। সোমবার ভোরে আরিফের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী জুরেজ আবদুল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। আরো আগে তাদের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। নেতারা বলছেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা বাসায় থাকেন না।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) সিলেট জেলা সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধূরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘সিলেটের পরিস্থিতিতে মানুষ আতঙ্কিত। এতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।’
‘নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না’
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, ‘সিলেটে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’ গতকাল সিলেট নগরের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। কামরান অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করার জন্য কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে বাইরে থেকে অস্ত্রবাজ-সন্ত্রাসী এনে নগরীতে জড়ো করা হচ্ছে।’ সন্ধ্যায় কামরানের পক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ করেন ১৪ দল নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমদ মুক্তা, গণআজাদী লীগের সভাপতি এডভোকেট এস কে শিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদত্ হোসেন, কমিউনিষ্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা.অসিত বরণ রায় প্রমুখ।
বিএনপির ৩৯ নেতাকর্মীর জমিন
দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় বিএনপির ৩৯ নেতাকর্মীকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত তাদের এ জামিন বহাল থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেইনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ প্রদান করেন। সকালে এডভোকেট কাফির করা এক রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি না করারও নির্দেশ প্রদান করে হাইকোর্ট।
সিভিল সার্জনসহ ৩ জনকে শোকজ
সিলেট ওসমানী হাসপাতালের অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করেছে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়। মঙ্গলবার তাদের নামে শোকজ চিঠি ইস্যু করা হয়। সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান চৌধুরী জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।