শিশুশ্রম নিরসনে আসছে মেগা প্রকল্প

নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নিরসনে মেগা প্রকল্প আসছে। ওই মেগা প্রকল্প-২০২১ সালের মধ্যে নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক।
 
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান করফারেন্স হলে ‘নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নিরসন এবং আইএলও কনভেনশন ১৩৮ ও ১৮৯ অনুস্বাক্ষরের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
 
অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নিরসনে আমি ১ লাখ শিশু শ্রমিকের জন্য ২৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছিলাম। আমাদের প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি বলেছেন, এতো কম টাকা কেন নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনতে আরো বেশি টাকার মেগা প্রকল্প প্রস্তাব করো, আমি পাস করে দিব। আমরা সেই মেগা প্রকল্প তৈরিতে কাজ করছি।
 
গৃহশ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা গৃহশ্রমিক সুরক্ষা নীতিমালা করেছি। শুধু আইন করলেই হবে না। আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে গৃহশ্রমিকদের জন্যে নৈতিকতার বিষষটি জাগ্রত করতে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসরাফিল আলম এমপি বলেন, গ্রামে গেলে বোঝা যায়, শিশুরা স্কুলে না গিয়ে কাজ করে কেন? বাস্তবতা অনেক কঠিন। শিশুরা যারা কাজ করছেন তারা মূলত দারিদ্র্যতার কারণেই কাজ করে। আমাদের দেশে এখনো ২২ ভাগ দরিদ্র জনগণ রয়েছে। তারমধ্যে আবার হতদরিদ্র শতকরা ১০ ভাগ। তিনি আরো বলেন, আমরা শিশু নীতি করতে সক্ষম হয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ কাজের তালিকা চিহ্নিত করেছি। যেসব শিশু শ্রমিক বর্জ্যজীবী তাদের এবং গৃহশ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে ভালো হতো বলে জানান। তিনি বলেন, আমরা সৌদি আরবে গৃহশ্রমিক নির্যাতনের সমালোচনা করছি, কিন্তু আমাদের দেশেও গৃহশ্রমিকরা শারীরিক, মানসিক কিছু ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। যার মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পায় না।
 
অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইএলরও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া, স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের পরিচালক মো. আবদুস সহিদ মাহমুদ। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা।