পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে ১০ তথ্য

পাকিস্তানে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। দেশটির ৭০ বছরের দীর্ঘ রক্তাক্ত ইতিহাসে, এটি হতে চলেছে গণতান্ত্রিক উপায়ে হওয়া দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে ২৭২টি  জাতীয় বিধানসভা আসনের জন্য লড়ছেন মোট ৩০০০-এর বেশি প্রার্থী। নিচে পাকিস্তানের নির্বাচন সংক্রান্ত ১০’টি তথ্য উল্লেখ করা হলো:
 
১- পাকিস্তানের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ। আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮.০০ টা থেকে ৮৫ হাজারেরও বেশি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে।
 
২- ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময়ে বেলুচিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর কোয়েটায় এক ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিস্ফোরণে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন।
 
৩- নির্বাচনের প্রবল উত্তেজনার আবহে গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। অভিযোগ, সেই প্রচারপর্ব থেকেই সেনাবাহিনী গোপনে সাহায্য করেছে ইমরান খানের দলকে।
 
৪- ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর, স্বাধীন দেশের ইতিহাসে অর্ধেকের বেশি সময় সেনা অভ্যুত্থানের ফলেই রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থেকেছে পাকিস্তান।
 
৫- সেনাবাহিনীকে প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে সেনা মোতায়েনের জন্যও সমালোচিত হয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেনাপ্রধান জেনারেল কামার বাজওয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে সেনাকে।
 
৬- স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথমবার, পাকিস্তানে একটি নির্বাচিত সরকার(পিএমএল-এন) তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারল। ২০১৩ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তারা।
 
৭- পাকিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচনের ‘বৈধতা’ সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করার বহু সুযোগ রয়ে গিয়েছে।
 
৮- বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানে। এদের মধ্যে একদম উপরের দিকে যার নাম আছে, সে হল ‘মুম্বাই জঙ্গিহানা’ খ্যাত জামাত-উদ দাওয়া’র প্রধান হাফিজ সৈয়দ। তার ছেলে এবং জামাই এই নির্বাচনে লড়ছে।
 
৯- নির্বাচনের আগে বহু প্রার্থী এবং তাদের প্রচার সভার ওপর আক্রমণের হয়েছে। পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন ভিন্ন প্রার্থীর কয়েক সদস্য।
 
১০- নির্বাচনের আগ দিয়ে দেশে ফিরেই গ্রেফতার হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার কন্যা মরিয়ম শরিফ। (এনডিটিভি অবলম্বনে) 
 
ইত্তেফাক/ জেআর