বঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোটে ডাকাতি ও হয়রানি

বাঁশখালীতে বোট মালিক মাঝি মাল্লাদের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বোট মালিক সমিতির উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকালে শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখ এলাকায় বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে মাছ ধরা ফিশিং বোটে জলদস্যুদের হামলা, মাছ লুট, গুলি বর্ষণ, ডাকাতি বন্ধের দাবিতে বোট মালিক ও মাঝি মাল্লাদের মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছে। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে গত শুক্রবার কুতুবদিয়া বায়ু বিদ্যুত্ এলাকায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ১৬ জন মাঝি মাল্লাকে বিনা দোষে আটক করে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সাগরে মাঝি মাল্লাদের নিরাপত্তা বিধান করা না হলে বাঁশখালী ফাঁড়ির মুখ বোট মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। হাজার হাজার জেলে সাগরে জাল ফেলে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। জলদস্যুরা মাঝি মাল্লাদের আটক করে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। এছাড়া কোস্ট গার্ডের সদস্যদের হাতেও মাঝি মাল্লারা মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে। শেখেরখীল বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুচ শুক্কুর বলেন, বাঁশখালী শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখ হতে গত ৭ এপ্রিল ১৬ জন মাঝি মাল্লা জাহাজ খালি এলাকায় মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে ফেরার পথে গত শুক্রবার সকালে মাছ ধরার বোট মেসার্স এফ ভি খাজা আজমীরকে দেশি তৈরি নৌকায় থাকা লোকজন এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। প্রতিবাদ সমাবেশে ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফাঁড়ির মুখ বোড মালিক সমিতির সভাপতি ইয়ার আলী, আবুল হোসেন ভুট্টু, আবদুচ শুক্কুর, ইউনুস কোম্পানি, জাহাঙ্গীর সওদাগর, নুরুচ্ছফা সওদাগর প্রমুখ।

শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, এলাকার প্রত্যেক মানুষকে আমরা চিনি। কোস্ট গার্ড জেলেদেরকে শুক্রবারে আটক  করার পর কুতুবদিয়া থানায় পাঠানোর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আটক জেলেদেরকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও  পরে তাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ফাঁড়ির মুখ বোট মালিক যারা আছেন তারা ডাকাত লালন পালন করেন না। ব্যবসায়ীরা ডাকাতি করা মাছও ক্রয় করেন না।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) কামাল উদ্দিন জানান, বাঁশখালীর ১৬ জন জেলেকে আটকের ঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত আছে কিনা তথ্য চেয়েছেন।