ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অন্তত ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া যানজট বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে সকালের দিকে যানজট চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিকালের দিকে মহাসড়কের রায়পুর এলাকা থেকে ঢাকাগামী দাউদকান্দি সেতু এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে।
যানজটের কারণে সড়কে সকল যাত্রী, পণ্যবাহী ও প্রাইভেট যানবাহনের গতি কম থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় কাটাতে হয়। এতে ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াতে ২ ঘন্টার সময় লাগছে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিনভর ফোরলেনের কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতু কেন্দ্রিক তীব্র যানজটের আশংকা করছে যানবাহনের চালকরা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২/৩ দিনের অবিরাম বর্ষণের কারণে দাউদকান্দি গোমতী ব্রিজের বিটুমিন নষ্ট হয়ে গিয়ে ব্রিজের ওপর অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সেতুর উভয় দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বুধবার দিবাগত গভীর রাতে সেতুতে একটি পণ্যবাহী যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এছাড়া টোল আদায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলের কারণেও যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে বলে চালকরা জানিয়েছেন।
বিকালের দিকে যানজট কিছুটা কমে আসে। দুপুরের দিকে ঢাকাগামী এশিয়া লাইনের যাত্রী কুমিল্লার সাংবাদিক আবদুল জলিল ভূঁইয়া সেলফোনে জানান, ২ ঘন্টার যাতায়াতের রাস্তায় ঢাকায় পৌঁছতে তার সময় লেগেছে ৬ ঘন্টা।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘মহাসড়কে যানজট স্থায়ী হচ্ছে না, ছুটির দিনকে সামনে রেখে যানবাহনের বাড়তি চাপের সাথে নতুন করে গোমতী সেতুর কয়েকটি স্থানে বিটুমিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছোট বড় গর্ত হওয়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সেতুর উভয় প্রান্তে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘যানজট নিরসনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম ও দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে সকাল থেকে দাউদকান্দি সেতুর ওপর সৃষ্টি হওয়া ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ইট, পাথর, বালু, বিটুমিনাস দিয়ে সংস্কার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ইত্তেফাক/নূহু