কামারপুকুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ

লোকবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে চিকিত্সক, মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট ও ফার্মাসিস্টসহ প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা থাকায় অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কেন্দ্রটিতে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামের তুলশী রানী, কুজিপুকুর গ্রামের জমিলা খাতুন, নিজবাড়ি গ্রামের ছালেনূর বেগম ও অসুরখাই গ্রামের আয়শা খাতুনসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রটিতে চিকিত্সক না থাকায় তারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া জরুরি অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র বা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ছুটতে হয়। এর ফলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিত্সা না পেয়ে জরুরি রোগীরা পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কামারপুকুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন ছাড়া আর কেউ নেই। নিয়োগপ্রাপ্ত ভিজিটর আখতার জাহান প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

এসময় কোনো রোগী আসলে তাকে কিভাবে সেবা দেওয়া হবে জানতে চাইলে সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাধারণ রোগী আসলে তাদের আমরাই ওষুধ দিয়ে থাকি। কিন্তু অন্যরা আসলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা ১০০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চিকিত্সক তো দূরের কথা প্রয়োজনীয় আয়া, পিয়নও নেই এখানে।

এ ব্যাপারে কথা হয় কামারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম লোকমানের সাথে। তিনি জানান, ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। কিন্তু এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিত্সকসহ লোকবল না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দ্রুততম সময়ে এখানে একজন গেজেটেড চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এখনই যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে একজন মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া দরকার। তাহলে ইউনিয়নবাসীর ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেন।্র