৩৭তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে উত্তীর্ণ সবাই চাকরি পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির ৫৭৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশের পর আরেকটি প্রথম শ্রেণির তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। চাকরি প্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে এবং ঘন ঘন পরীক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডারে নিয়োগে আগ্রহী বর্তমান কমিশন। এরই অংশ হিসেবে এবার ৩৭তম বিসিএস থেকে রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী চাকরি পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড.মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের কাছে এ পর্যন্ত যত শূন্য তালিকা আছে সেই হিসেবে ৩৭তম বিসিএস নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণদের বেশিরভাগই শর্ত সাপেক্ষে চাকরি পাবেন। আমরা চাই সর্বোচ্চ মেধাবীরা চাকরি পাক। কেননা বিসিএসের মতো সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ক্যাডার এবং নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণরা মেধাবী এবং পরিশ্রমী।
২০১৮ সালের ১২ জুন ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ক্যাডার পদে ১৩১৪ জন নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হন। বাকি ৩ হাজার ৪৫৪ জনকে নন-ক্যাডারে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। পদ পাওয়া সাপেক্ষে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে নিয়োগের সুপারিশ করবে পিএসসি। গত ১৩ মার্চ ৫৭৮ জনকে প্রথম শ্রেণির পদে (নবম গ্রেড) নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। প্রথম তালিকায় প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে সমাজসেবা অফিসার পদে ১৫০ জন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে ৫২ জন, উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার পদে ২৩ জন, সাবরেজিস্টার পদে ৪০ জন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পদে ৩১ জনসহ সর্বমোট ৭৮ ক্যাটাগরির ৫৭৮টি পদ ছিল। প্রথম শ্রেণির আরো একটি তালিকা রমজানের পর প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরপরই দ্বিতীয় শ্রেণির তালিকা প্রকাশ করবে পিএসসি। ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলের আগ পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যদিও ৩৮তম বিসিএসের এখনো লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেনি পিএসসি।
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আইম নেছারউদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন, প্রথম শ্রেণিতে আপাতত অর্ধশতাধিক শূন্য পদ কমিশনের হাতে আছে। এতে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ আছে ২০টি, রেলওয়ের সহকারী সার্জনের পদ আছে ১২টি, পিএসসির সহকারী পরিচালক পদ আছে ২টি, গবেষণা কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর কয়েকটি পদ আছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির শূন্য তালিকার বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ৩৮৭টি, খাদ্য পরিদর্শক ৭৫টি, এন বি আরের কর পরিদর্শক ২৭টি, ডেপুটি জেলার নারী ৭টি ও পুরুষ ২৩টি, আনসার ও সার্কেল অ্যাডজুটেন্ড ৭৫টি, সি এ জি অফিসের অধিক্ষক ৮০টি, ফায়ার সার্ভিসের ১২ গ্রেডের পদে ৪৫টি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক পদে ৩ হাজার ৭১৬টি শূন্য পদের চাহিদা রয়েছে।