রংপুরের মিঠাপুকুরে এক প্রতিবন্ধী ভ্যানচালকের স্ত্রীকে (৩৫) ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১নং খোড়াগাছ ইউনিয়নের পাকপাড়া ইসলামপুর গ্রামে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার মামলা হয়েছে। বাদীর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে আরেক কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বামীকে পুলিশে দিয়েছেন তার স্ত্রী।
ধর্ষণের পর গাছে বেঁধে নির্যাতন!
রংপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, মিঠাপুকুরে প্রতিবন্ধী ভ্যানচালকের স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দিয়েছেন ধর্ষিতা নিজেই। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার বাসিন্দা মান্নান মিয়া গত ১৩ এপ্রিল রাতে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে মান্নান তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে প্রতিবন্ধী স্বামীকে জানালে তিনি চেঁচামেচি করতে থাকেন। চিত্কার শুনে মান্নান অন্য আসামিদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী স্বামী-স্ত্রীকে একটি আম গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে তাদের স্বাক্ষর নেন।
এজাহারে উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন: রব্বানী মিয়া (২৮), আশরাফুল আলম (৩৫), মান্নান মিয়ার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৪০), কন্যা মিনারা বেগম (২৫), শাপাদ খাতুন (২২), শিউলী বেগম ও রেবেকা আক্তার (৫৫)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, দেড় মাস আগেও মান্নান মিয়া ওই নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন। তখন স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর আলী বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বাদীর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
ছাত্রী ধর্ষণ মামলার মূল আসামি গ্রেফতার
রংপুর মহানগরীর ধাপ কামারপাড়া এলাকায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি মন্টু চন্দ্র রায় মিলনকে (৩৬) গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৫ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শিয়াল খাওয়া বলাইহাট গ্রাম থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লাপাড়ায় প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ
উল্লাপাড়া (উপজেলা) সংবাদদাতা জানান, গত ১৫ এপ্রিল বিকালে উপজেলার অলিপুর গ্রামে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৫) একই গ্রামের খাইরুল ইসলাম ও তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম ধর্ষণ করেন। এই ঘটনার পর ধর্ষিতার পিতা ওই গ্রামের মাতবরদের কাছে বিচার দেন। ধর্ষক খাইরুল প্রভাবশালী হওয়ায় মাতবররা বিচার নিয়ে টালবাহানা করলে গত শুক্রবার ধর্ষিতার বাবা উল্লাপাড়া থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই ধর্ষক খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। খাইরুল অলিপুর গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে।
স্বামীকে পুলিশে দিলেন স্ত্রী
রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাহফুজুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশে দিয়েছেন তার স্ত্রী। গত শুক্রবার রাতে ওই ব্যক্তিকে পুলিশে দেওয়া হয়। মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাহফুজুর পেশায় রিকশাচালক বলে জানিয়েছেন রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।