রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব পাচারকারীর সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে রোহিঙ্গা পাচার চক্রের। ক্যাম্পে নিরাপদে অবস্থান করে বিদেশে পাঠানোর নামে রোহিঙ্গা যুবতী নারী সংগ্রহ করছে চক্রগুলো।
কুতুপালং ক্যাম্প ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারি মো. নুর জানায়, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে সেসব রোহিঙ্গা পরিবারের নারীরা বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে লোকমুখে শুনেছেন। তার এক আত্মীয় মো. সেলিম জানায়, মালয়েশিয়ায় যেসব রোহিঙ্গা আরাম আয়েশে দিন যাপন করছে তাদের আমন্ত্রণে রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। রেজিস্টার্ড শরণার্থী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা নেতা জানান, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গারা হুন্ডির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা পাঠাচ্ছেন। আর এ টাকা সরাসরি চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা দালালের হাতে। পরে রোহিঙ্গা দালাল ও পাচারকারী চক্র আগে থেকে টার্গেট করা সুন্দরী নারীদের অভিনব কায়দায় ক্যাম্প থেকে বের করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এসব নারীর ভেজাল পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এই নারীরা ধরা পড়লেও পাচারকারী চক্ররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
উখিয়া থানা ওসি তদন্ত নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭/১৮ জন রোহিঙ্গা নারী দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ক্যাম্পে ফিরে এসেছে। সাতক্ষীরা থেকে আরো চার জন রোহিঙ্গা নারী ফিরে আসার কথা রয়েছে। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম জানান, দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে রোহিঙ্গা নারীরা সর্বশান্ত হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ক্যাম্পে ফিরে আসতে দেখা যায়।