উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বিরোধী মহাজোটে কংগ্রেস, সমাজবাদী, মায়াবতী ও অজিত সিং

ভারতের উত্তরপ্রদেশে বিজেপি’কে পরাস্ত করতে মহাজোট গঠনে সম্মত হয়েছে কংগ্রেস, আখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি, দলিত নেত্রী মায়াবতির বিএসপি, অজিত সিংয়ের আরএলডি। লোক সভার সবচেয়ে বেশি সাংসদ নির্বাচিত হন এই রাজ্য থেকেই। সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজ্যের ৮০টি আসন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে সম্মত হয়েছে চার দলের নেতারা। 
 
এনডিটিভি জানায়,  প্রচলিত আছে উত্তরপ্রদেশের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের অনেকাংশ। দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যে ফল ভাল না হলে দিল্লি দখল যে অধরাই থেকে যায় তা অঙ্কের হিসেবেও সত্যি। আর তাই আগামী লোকসভা  নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে উত্তর প্রদেশর বিরোধী দল গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। কংগ্রেস থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টি বা বহুজন সমাজ পার্টির নেতারা এ সত্য খুব ভালভাবেই জানেন।
 
রাজ্যের মোট ৮০ আসনের কোনটায় কে লড়বে তা নিয়ে গোপনে আলোচনা চলছিল। অবশেষে আলোচনা শেষে সকলের সমঝোতা আনুষ্ঠানিক ভাবে রূপ পেয়েছের।  কোন দল কয়টি করে আসনে লড়বে তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা বেশ কিছুটা এগিয়েছে। মনে করা হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। 
 
বিরোধীরা এক হওয়ায় উত্তর প্রদেশে ইতিমধ্যে খাদে পড়েছে বিজেপি। পরপর কয়েকটি  উপনির্বাচনে হারতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটিকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ছেড়ে যাওয়া আসন গোরক্ষপুরে অস্তমিত হয়েছে গেরুয়া পতাকা।  তারপর উত্তরপ্রদেশের কাইরানা লোকসভা এবং নুরপুর বিধানসভার উপনির্বাচনেও হার হয়েছে বিজেপির।
 
অবশেষে আবারও জোট প্রসঙ্গে কাছাকাছি এসেছে বিরোধী দলগুলো। জানা গেছে অজিত সিংয়ের দল আরএলডি থাকছে এই জোটে। মনে রাখতে হবে কাইরানাতে সমস্ত বিরোধী দলের সমর্থনে জিতেছিল আরএলডি-ই। 
 
এবার, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসকে ১০ টির মতো আসন দেওয়ার কথা ভাবা  হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আসনে লড়বে দলিত নেত্রী  মায়াবতীর দল বিএসপি। আর অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি লড়বে ৩২টি আসনে।    
 
উত্তর প্রদেশে জোটের  পথ সুগম হলেও মধ্যপ্রদেশে কিছুটা হলেও সমস্যা আছে। সেখানে কংগ্রেস এবং অন্য  দলগুলির শক্তি বিএসপির থেকে বেশি। 
 
তবুও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৩০টির মধ্যে ৫০টি আসন চেয়েছেন মায়াবতী। কিন্তু তাকে অত আসন ছাড়তে রাজি নয় বাকিরা। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং তামিলনাডুরতে সমঝোতা প্রায় সেরে ফেলেছে কংগ্রেস। এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক/ জেআর