রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। যান চলাচল বন্ধ হয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো শহর। কোথাও ফাঁকা সড়ক, আবারো কোথাও তীব্র যানজট। পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পাড়ি জমাচ্ছেন নগরবাসী।
IMG0
সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা একযোগে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ফার্মগেট, মিরপুর, মতিঝিল ও বিমানবন্দর সড়কে অবরোধের ফলে সকাল থেকে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো রাজধানীর যান চলাচল। শিক্ষার্থীদের ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মরল কেন, সরকার জবাব চাই’, ‘আমার বোন মরল কেন, সরকার জবাব চাই’ স্লোগানে মুখরিত  হয়ে উঠেছে রাজপথ। এরমধ্যে মিরপুরে শহীদ স্মৃতি পুলিশ কলেজের ছাত্রদের অবরোধের সময় পুলিশের হামলায় এক ছাত্রের মাথা ফেটে যায়। এতে ওই এলাকায় বিক্ষোভ আরো বেগবান হয়েছে।
IMG1
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ও তেজঁগাও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেছে। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে। তাদেরকে রাস্তার একদিকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
 
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরো এলাকাজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। আশপাশের দোকানপাট সব বন্ধ। পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ও থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
IMG2
অন্যদিকে শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনের উদ্দেশে রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এছাড়াও মিরপুর কালশী রোড থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মোড়ে মোড়ে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাবতলী থেকে গুলশান নতুন বাজার পর্যন্ত রোডে বাস সার্ভিস বন্ধ। মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর যাত্রীকে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
 
দুই বাসের প্রতিযোগিতায় রবিবার কুর্মিটোলায় বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে দুই বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের দাবি ঘাতক চালকের মৃত্যুদণ্ড ও নিরাপদ সড়ক।
 
ইত্তেফাক/এএম