১৭ কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি কামরানের

সিলেটে দুটি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত থাকার কারণে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কমরানের চেয়ে বেশি ভোট পেলেও সিলেট নির্বাচন কমিশন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারছে না। স্থগিত ঐ দুটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হবে কিনা-সেই সিদ্ধান্তের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রধান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার অপেক্ষায়। ঐ দুটি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ হাজার ৪৮৭। ভোট হলে আরিফুল হকের পাশ করতে ১৬২ ভোটের প্রয়োজন। এদিকে ঐ দুটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হবে কি না-তা নগর কৌতুহল বিরাজ করছে। তবে ভোট হক বা নাই হক সিলেট বাসী আরিফুল হককে ‘বিজয়ী হিসাবেই ধরে নিয়েছেন। ‘তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও জালভোটের অভিযোগ তুলে ১৭টি ভোট কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সব মিলিয়ে নির্বাচনী উত্তাপ শেষ হয়নি সিলেটে। নির্বাচনে এগিয়ে থাকা মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী মঙ্গলবার বাদ জোহর দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত শেষে নগরীর উন্নয়নে সব মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, সিলেটের সম্প্রীতির বন্ধন দীর্ঘদিনের। এই বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে সিলেট নগরীর উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চাই।
 
এদিকে সোমবার দিনভর নানা ঘটনা, উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সিসিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সকালের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টে যায়। পুলিশের ফাঁকা গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালেট ছিনতাই, সংঘর্ষ, জাল ভোট প্রয়োগ, কেন্দ্র থেকে কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সিসিক নির্বাচন চলতে থাকে। দিন গড়ালে ধারণা করা হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বিজয়ের দিকে।
 
কিন্তু ভোট গণনাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফলে ভিত্তিতে দেখা যায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী  বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হকের সাথে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই চলছে। রাত যতই বাড়ে ভোটের চিত্র পাল্টাতে থাকে। দেখা যায় ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে  ১৩২ কেন্দ্রে আরিফ, কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোট বেশি পেয়েছেন। কিন্তু আরিফের ভাগ্য ঝুলে আছে-স্থগিত দুটি কেন্দ্রের ভোটের উপর। আর দুটি কেন্দ্রে ভোট হলে তার প্রয়োজন ১৬১ ভোট।
 
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। দুটি স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭। অন্যদিকে সিলেটে কামরানের পরাজয়ের কারণ হিসাবে সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও দায়ী করেছেন অনেকেই। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধূরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমি মনে করি কামরানের পরাজয়ের পিছনে দলীয় রাজনীতি। ব্যক্তি আরিফকে ভোট দিয়েছে মানুষ তার কাজের মূল্যায়ন হিসাবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি