র্যাবের অভিযানে ফতুল্লা থেকে সিরিজ বোমা হামলার পলাতক আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান (৩৫) গ্রেফতার হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বোমা-বিস্ফোরণের ঘটনার মামলার পলাতক আসামি। বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীস্থ র্যাব-১১ এর কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নোমান ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩, ৫ ও ৬ এর চার্জশিটভুক্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। তার বাবার নাম মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
বর্তমানে কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান হোসাইন আহমেদ আজমী ছদ্মনামে ২০০৭ সাল হতে রাজশাহী কাটাখালী থানার বাখরাবাজ এলাকার জামিয়া উসমানীয়া হোসাইনাবাদ মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি ১৯৯৩ সালে কুতুবআইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফতুল্লা হতে ৫ম শ্রেণি, ২০০২-২০০৩ সালে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম, দেওভোগ নারায়ণগঞ্জ হতে দাওরায়ে হাদিস পাশ করে এবং তার পাশাপাশি শাহ ফতুল্লা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা হতে দাখিল পাশ করেন।
র্যাবের জিজ্ঞসাবাদে নোমান জানান, তৎকালীন জেএমবির প্রধান শায়েখ মাওলানা আ. রহমানের নির্দেশে তার অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত বোমা হামলায় অংশগ্রহণ করে। জেএমবির প্রধান শায়েখ মাওলানা আ. রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানিসহ গ্রেফতারকৃত ও পলাতক জেএমবির অন্যান্যদের সঙ্গে কেফায়েতুর রহমান এর সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়।
কেফায়েতুর রহমানের জন্ম চট্টগ্রামের সন্দীপে হলেও মাত্র ৭ বছর বয়সে তার বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে আসে এবং ফতুল্লা থানার কেতালবাগ ঠিকানায় বসবাস শুরু করে। তার বাবা নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। সারা দেশে এই সিরিজ বোমা হামলার পর ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হলে কেফায়েতুর রহমান এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়।
র্যাব আরও জানায়, কেফায়েত ২০০৭ সালে নিজের নাম পরিবর্তন করে হোসাইন আহমেদ আজমী পরিচয়ে রাজশাহীর কাটাখালী থানা এলাকায় তার খালাত ভাইয়ের মাদ্রাসা জামিয়া উসমানিয়া হোসাইনাবাদ, বাখরাবাজে শিক্ষকতা শুরু করেন। কেফায়েতুর রহমান আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়া নিজেকে আড়াল করার জন্য ছদ্মনাম ব্যবহার করে ঐ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বগুড়া এলাকায় বিয়ে করে স্ত্রীসহ উক্ত মাদ্রাসার পাশে একটি বাসায় বসবাস করতে থাকেন। তিনি সম্প্রতি ফতুল্লায় অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ণয় করে তাকে ফতুল্লা থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি