দেওয়ানগঞ্জ-ডংধরা-সানন্দবাড়ী বাজার সড়ক খানাখন্দে ভরা

এলজিইডির পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ-তারাটিয়া বাজার হয়ে ডাংধরা ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী বাজার সড়কের বেহাল অবস্থা। ফলে দীর্ঘদিন যাবত্ এলাকাবাসীকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী সড়কটি দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারীসহ তারাটিয়া বাজার হয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকেন। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তারাটিয়া বাজার হয়ে সানন্দবাড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪৬ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত্ সংস্কারের অভাবে সড়কটি খানাখন্দে যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ সড়কে প্রতিনিয়ত ট্রাক, বাস, পিকআপ ভ্যান, রিকশা বড়-বড় গর্তে পড়ে চলাচলকারী মানুষগুলো কাদায় পড়ে হাবুডুবু খেয়ে আহত হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বেহাল দশায় তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দিন-দিন বঞ্চিত হওয়ায় এলাকার উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেওয়ানগঞ্জ থেকে তারাটিয়া বাজার পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার তারাটিয়া বাজার থেকে ডাংধরা কদমতলী, সানন্দবাড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার মোট ৪৬ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর রৌমারী ও চিলমারী উপজেলার বাসিন্দা রাজধানী ঢাকা-চট্টগ্রাম-যাতায়াতকারী মানুষগুলো সানন্দবাড়ী, তারাটিয়ার হয়ে দেওয়ানগঞ্জ সড়কে এসে রেল ট্রেন কিংবা বাসে যাতায়াত করে আসছিল। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বাস চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সড়কের বেহাল দশার কারণে ব্যবসায়ীদের পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীসহ কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাররামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী জুয়েল বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পাররামপুর, ডাংধরা এবং চর আমখাওয়া এলাকার লোকজনের যাতায়াতে চরম  দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে এসে দেওয়ানগঞ্জে রেলস্টেশনে নেমে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে সরাসরি বাড়ি যেতে পারতো। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে তিন উপজেলা প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ শেরপুর-বকশীগঞ্জ হয়ে প্রায় শত কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার মাহমুদুল বলেন, রাস্তাটি বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেয়ে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী বাজার ডাংধরা রাস্তাটি পুনর্বাসন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/নূহু