পদ্মার ভাঙ্গনে বসতভিটা বিলীন, ঝুঁকিতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে দৌলতদিয়া এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত তিন সপ্তাহে এসব ইউনিয়নের প্রায় ১০০ পরিবারের বসতভিটা এবং প্রায় ১৭০ একর ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। পানি বাড়ার সাথে ভাঙ্গনের মাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট বন্ধের ঝুঁকির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।
 
এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় গত ১৪ জুন থেকে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। ঘাটের পাশে বাহির চর দৌলতদিয়া, সাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকায় ভাঙ্গন আতঙ্কে অন্যত্র সরে গেছে অনেক পরিবার। ভাঙ্গন বেড়ে গেলে ফেরি ঘাট ও আশপাশ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙ্গনে ফেরি ঘাট ঝুঁকির মুখে পড়ে। এতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। তাৎক্ষনিক পাউবোর ব্যবস্থাপনায় ঘাট রক্ষা সম্ভব হয়। এ বছর বর্ষার শুরু থেকে ভাঙ্গন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। কিন্তু এসবের পরিবর্তে দরকার স্থায়ী সমাধান। এ বছর ভাঙ্গন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সম্পূর্ণ ঘাট ফের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ৬নম্বর ঘাট পদ্মায় বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে ব্যাহত হতে পারে ফেরি পারাপার। বন্ধ হয়ে যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
   
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের কাছে বাহির চর দৌলতদিয়া থেকে রাজবাড়ী শহর পর্যন্ত নদী শাসনের বিকল্প নেই। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলে ভাঙ্গন দেখা দেয়। বিলীন হতে থাকে পদ্মা তীরবর্তী শত শত বিঘা ফসলি জমি। ইতিমধ্যে বাহির চর দৌলতদিয়ার ১৫টি পরিবার অন্যত্র সরে গেছে। ভাঙ্গনের কারণে বড় ধরনের হুমকিতে রয়েছে ফেরি ঘাটসহ রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধ এবং জেলা শহর।
           
দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, ভাঙ্গনে দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তার মোড় পাকা সড়কের প্রায় ৪০০ ফুট এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। দেবগ্রাম শেষে ছোটভাকলা ইউনিয়নের অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দেবগ্রামের পদ্মা তীরবর্তী প্রায় ১০০ একর ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ভাঙ্গনে অন্তত ৬০টি পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বর্ষায় ভাঙ্গনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
 
ছোটভাকলা ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, অন্তারমোড় পাকা সড়ক দেবগ্রামের অংশ ভাঙ্গন শেষে এক সপ্তাহ ধরে ছোটভাকলা অংশের প্রায় ১০০ ফুটের মতো নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া পদ্মা তীরবর্তী ছোট জলো এলাকায় প্রায় ৭০ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে অন্যত্র সরে গেছে প্রায় ২০টি পরিবার। প্রতিদিনই ভাঙ্গন বাড়ছে। বিশেষ করে বাতাস শুরু হলেই ভাঙ্গনের মাত্রা বেড়ে যায়।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসার উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে দৌলতদিয়া এবং দেবগ্রামের পদ্মা তীরবর্তী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছি। ফেরি ঘাট এলাকায় ভাঙ্গন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এসব ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম বাড়ানো হবে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।  
 
ইত্তেফাক/এএইচ/জেডএইচ/